সমাবেশে এক বিক্ষোভকারী
‘তেল-গ্যাস প্রশ্নে দুই নেত্রীর কথা মানুষ বিশ্বাস করে না। কিন্তু আমাদের প্রতি জনগণের আস্থা আছে।’
গতকাল শনিবার তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এ কথা বলেন। তিনি জনগণের প্রতি জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনে শরিক হয়ে তা জোরদার করার আহ্বান জানান।
গতকাল শনিবার তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এ কথা বলেন। তিনি জনগণের প্রতি জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলনে শরিক হয়ে তা জোরদার করার আহ্বান জানান।
সমাবেশ থেকে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা সমাধান, জাতীয় সম্পদে জনগণের মালিকানাসহ সাত দফা বাস্তবায়নের দাবিতে চার মাসের (ডিসেম্বর-মার্চ) আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। গতকাল বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংগঠনের আহ্বায়ক শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণে টালবাহানা করলে বা জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে ঘেরাও, অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচি দেওয়া হবে।
জাতীয় কমিটির দাবিগুলো হচ্ছে: কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানো, ব্যয়বহুল ও পরিবেশ দূষণকারী জ্বালানি দিয়ে ক্ষুদ্র স্কেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করা, পুরোনো গ্যাসভিত্তিক বৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর আধুনিকায়ন, কনোকোফিলিপসের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি বাতিল, ফুলবাড়ী-বড়পুকুরিয়ায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের চেষ্টা বন্ধ করা, সুনেত্র ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে বাপেক্সের মাধ্যমে গ্যাস উত্তোলন করা ও আবিষ্কৃত খনি থেকে দ্রুত কয়লা উত্তোলন করে জ্বলানিসংকট নিরসন করা।
এ দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ২৯ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও, ১৫ মার্চ সারা দেশে রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ডিসেম্বর মাসজুড়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আলোচনা, গান, নাটক, প্রদর্শনীসহ নানামুখী কর্মসূচি পালন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে জেলা ও উপজেলায় কেন্দ্রীয় নেতাদের সফর, সমাবেশ, মিছিল, খনিজ সম্পদ রপ্তানি নিষিদ্ধ আইন চলতি অধিবেশনে পাস করার দাবিতে সংসদ অভিমুখে মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
দুপুর ১২টায় সমাবেশ শুরু হয় গণসংগীত দিয়ে। আড়াইটায় শুরু হয় জাতীয় নেতাদের বক্তব্য।
জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন, ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন করবেন। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করবেন না। নির্বাচনের আগে এক কথা, নির্বাচনের পরে আরেক কথা জনগণ মেনে নেবে না।
সিপিবির সভাপতি মনজুরুল আহসান খান দেশের রাজনীতি থেকে শুরু করে জ্বালানিসহ বড় বড় সংকটের জন্য সাম্রাজ্যবাদী গোষ্ঠী ও তাদের পোষ্যদের দায়ী করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারগুলো আমেরিকার সঙ্গে অন্তত ১০টি গোপন চুক্তি করেছে। এগুলো প্রকাশের দাবি করেন তিনি।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা হবে না এবং ৫০ বছরের মজুদ রেখে তারপর গ্যাস রপ্তানি করা হবে। সেই সাহসী বক্তব্যে আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। কিন্তু সমুদ্রবক্ষের গ্যাস শতভাগ রপ্তানি চুক্তি করা হয়েছে। এ চুক্তির মধ্য দিয়ে দেশের সম্পদ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’
বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, যে দেশে পুঁজিবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদ থাকবে, সে দেশের সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা যাবে না। কারণ সাম্রাজ্যবাদ থাকলে লুটতরাজ থাকবে।
উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের বিরোধিতা করে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘কয়লা দূরের কথা, যদি সোনা, হীরাও পাওয়া যায়, তাহলেও আমরা উন্মুক্ত পদ্ধতিতে যেতে পারি না। কারণ আমাদের দেশে জমি কম, মানুষ বেশি।’
সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জাতীয় গণফ্রন্টের সমন্বয়ক টিপু বিশ্বাস, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান, ওয়ার্কার্স পার্টির (পুনর্গঠিত) সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার, বাসদের (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া, সাম্যবাদী দলের (এমএল) পলিটব্যুরো সদস্য ধীরেন সিংহ, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সভাপতি সামসুজ্জোহা, ন্যাপের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রশিদ সরকার, জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের আহ্বায়ক মাসুদ খান, বাংলাদেশ ভূমিহীন সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুবল সরকার ও ফুলবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
বিশিষ্টজনদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এম এম আকাশ, আকমল হোসেন, আবদুস সাত্তার, প্রকৌশলী ম এনামুল হক।
সূত্র: প্রথমআলো, ২৭/১১/২০১১
No comments:
Post a Comment