Saturday, December 3, 2011

‘ঢাকায় দুজন মেয়র করে কী হবে’



সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেছেন, ‘ঢাকার মানুষকে জিজ্ঞেস করে, তাদের মতামতের মূল্য দিয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে ভাগ করা হলে কাল রোববার হরতাল করার কোনো প্রশ্ন উঠত না। ঢাকায় দুজন মেয়র করে কী হবে? তারা চার বছর ঘুমিয়ে থাকলেও কিছু করা
যাবে না। উন্নত বিশ্বের মতো গণভোট করার বিধান থাকলে মানুষ সময়ের আগেই তাদের নামিয়ে দিত।’
আজ শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল আলোচনায় আকবর আলি বলেন, ‘আমাদের দেশসহ বেশির ভাগ দেশে এখন গণতন্ত্র সাধারণ মানুষের জন্য না হয়ে রাজনীতিবিদদের হাতিয়ার হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, জনগণের রায় নিয়ে পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় এসে রাজনীতিবিদেরা মনে করেন, যা ইচ্ছা তা-ই করা যায়। সাড়ে চার বছর তাঁরা এভাবেই চলেন। পরের ছয় মাস জনগণের জন্য ভাবেন।
‘ওয়াল স্ট্রিট দখল আন্দোলন: নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক তাত্পর্য’ শীর্ষক ওই গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিস অ্যান্ড পিস স্টাডিজ (সিএসপিএস)।
 সংগঠনের চেয়ারম্যান সাবেক সচিব শাহ আবদুল হান্নান অনুষ্ঠানের সভাপতি ও সমন্বয়ক ছিলেন।
ওয়াল স্ট্রিট দখল আন্দোলনের বিষয়ে আকবর আলি খান বলেন, এই আন্দোলন বুঝতে হলে বিশ্বায়নের প্রক্রিয়া আগে বুঝতে হবে। এই আন্দোলনের চলমান প্রক্রিয়ার বিষয়ে মনে রাখতে হবে—গত দুই দশকের তুলনায় সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতি অস্থিতিশীলতার মধ্যে আছে। ফলে ব্যক্তিজীবনে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। এটা পুঁজিবাদের সমস্যা। পুঁজিবাদের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো।
আকবর আলি খান আরও বলেন, দেশে দেশে ধনবৈষম্য বেড়ে গেছে। গরিব মানুষের কান্না রাষ্ট্রের কাছে পৌঁছায় না। কারণ রাষ্ট্রকে দখল করে রেখেছেন ধনীরা। তাই ধনবৈষম্যের ক্ষতিকারক দিক বাদ দিয়ে সবাইকে চলার চেষ্টা করতে হবে। তিনি বলেন, ২০ বছর ধরে যে আন্দোলন চলছে, তারই ধারাবাহিকতায় ওয়াল স্ট্রিট দখল আন্দোলন চলছে।
অনুষ্ঠানের প্রবন্ধ উপস্থাপক মোহাম্মদ মুসা বলেন, কয়েক বছর আগে বিশ্বায়নের অর্থনৈতিক সংকট শুরু হলে সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখা দেয়। ২০০৯ সালে তা চলে গেছে বলা হলেও এটা পুনরুদ্ধারে সময় লাগবে। অনুষ্ঠানে সাবেক সাংসদ ফেরদৌসি ওয়াহিদা, ইংরেজি দৈনিক নিউ নেশনের সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সূত্র: প্রথমআলো.কম, ০৩/১২/২০১১

No comments:

Post a Comment