Thursday, December 15, 2011

যুবলীগের নেতা বিক্রি করে দিলেন সেতু!

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় যুবলীগের নেতার বিরুদ্ধে এলজিইডির একটি সেতু বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে! ওই নেতার নাম কে এম জাহিদুল হাসান। তিনি উপজেলা যুবলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী (পিয়ন) তুহিনুর রহমান যুবলীগের ওই নেতার কাছ থেকে সেতুটি কিনে নিয়েছেন। তুহিনুর শ্রমিক নিয়োগ করে ৯ ডিসেম্বর থেকে সেতু ভাঙার কাজ শুরু করেছেন। তবে জাহিদুল হাসান সেতু বিক্রির ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন।
এলজিইডির আলফাডাঙ্গা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাবনী কোটরাকান্দি গ্রামের ঘোষবাড়ীর কাছে আলফাডাঙ্গা-বানা সড়কে একটি সেতু ছিল। এ সেতুর দৈর্ঘ্য ৩৫ ফুট। আশির দশকে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। অনেক দিন ব্যবহারের ফলে সেতুটি অচল হয়ে যায়। সম্প্রতি সেখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ দেওয়া হলেও পুরোনো সেতুটি অপসারণের ব্যাপারে এলজিইডি কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
আলফাডাঙ্গার পিআইও রেজাউল করিম বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার কার্যালয়ের এক কর্মচারীর জড়িত থাকার কথা আমি শুনলেও যেহেতু অপসারণের দায়িত্ব আমার নয়, সেহেতু আমি বিষয়টি ততটা গভীরে গিয়ে দেখিনি।’
উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আনন্দ কুমার ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, ‘১১ ডিসেম্বর আমি জানতে পারি, সেতুটি অপসারণ করা শুরু হয়েছে। আমি পদক্ষেপ নিয়ে অপসারণের প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিই এবং সেতুটি আইনগত পন্থায় অপসারণের জন্য এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে অনুমতি চেয়ে চিঠি পাঠাই।’
পিআইও কার্যালয়ের পিয়ন তুহিনুর রহমান বলেন, ৭ ডিসেম্বর বোয়ালমারী বাজারে বসে যুবলীগের নেতা জাহিদুলের সঙ্গে ওই সেতু বিক্রির ব্যাপারে কথা হয়। তখন জাহিদুল বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওকে ম্যানেজ করে ওই সেতুটি অপসারণ করা যাবে। এ জন্য ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। পরদিন তাঁকে ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়।
তুহিনুর রহমান সেতু কেনার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার মধ্যস্থতায় বোয়ালমারীর ভাঙারি ব্যবসায়ী রফিক বিশ্বাস সেতুটি কিনেছেন।’
ভাঙারি ব্যবসায়ী রফিক বিশ্বাস বলেন, ‘ওই সেতুটি আমি কিনিনি, তুহিনুর রহমানই কিনেছে। সে (তুহিন) আমাকে নিয়ে গিয়েছিল যাচাই করতে যে সেতুতে কত টাকার লোহা আছে।’
জাহিদুল হাসান বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমি ওই জায়গা দিয়ে যাওয়ার সময় সেতুটি ভাঙতে দেখি। যারা সেতুটি ভাঙার কাজে নিয়োজিত, তাদের আমি গরম কথা বলি। পরে আমার মুঠোফোনে তুহিনুর ফোন করে আমাকে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ না করতে অনুরোধ করে বলেন, “আপনাকে টাকা দেব।” এ প্রস্তাবে আমি তাঁকে ভর্ৎসনা করি।’
আলফাডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান খান বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘ওই সেতু বিক্রির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিও আমি নই। তার পরও কেন আমার নাম এসেছে, তা আমার বোধগম্য নয়।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দাউদুল ইসলাম মুঠোফোনে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আপনি সামনাসামনি আসেন, কথা বলা যাবে।’


সূত্র: প্রথম আলো.কম, 16/12/2011

No comments:

Post a Comment