Thursday, December 15, 2011

সংস্কারের পর ‘শহীদ’ শব্দটি বাদ!

বগুড়ার শহীদ টিটু মিলনায়তনের নাম পাল্টে ‘পৌর টিটু মিলনায়তন’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। গত সোম�
বগুড়ার শহীদ টিটু মিলনায়তনের নাম পাল্টে ‘পৌর টিটু মিলনায়তন’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে। গত সোমবার তোলা ছবি


বগুড়ায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচিহ্নগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। অথচ এই বীর মুক্তিযোদ্ধারাই ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের শোষণ ও পরাধীনতার গ্লানি থেকে দেশের মানুষকে মুক্ত করার জন্য জীবন বিলিয়ে দিয়েছিলেন। 

বগুড়ার সাংস্কৃতিক কর্মীরা জানান, বগুড়া শহরের গোহাইল সড়কে পৌর উদ্যানের সঙ্গে শহীদ টিটু মিলনায়তন অবস্থিত। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ এই মিলনায়তনে হয়ে থাকে। সেই পাকিস্তান আমলে প্রতিষ্ঠিত এই মিলনায়তনের নাম ছিল এডওয়ার্ড ড্রামাটিক অ্যাসোসিয়েশন (ইডিএ) মিলনায়তন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধা টিটুর স্মৃতি ধরে রাখার জন্য তৎকালীন ইডিএ মিলনায়তনকে শহীদ টিটু মিলনায়তন নামকরণ করা হয়। এটি বগুড়া পৌরসভার তত্ত্বাবধানে আছে। সম্প্রতি সংস্কারের পর থেকে এই মিলনায়তনের নামফলকে শহীদ শব্দটি বাদ দিয়ে পৌর টিটু মিলনায়তন লেখা হয়েছে।
পৌর মেয়র এ কে এম মাহবুবর রহমান বলেন, ‘টিটু মিলনায়তনে শহীদ কথাটি আমার জানা মতে ছিল না। যদি থাকেই তাহলে শহীদ কথাটি লিখে দেওয়া হবে।’ 
বগুড়া জিলা স্কুলের ছাত্র দোলন স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ হন। এ বিদ্যালয়ের ভেতরে অবস্থিত আবাসিক ছাত্রাবাসটি তাঁর নামে করা হয়েছিল। কিন্তু এখনো ছাত্রাবাসের কোথাও শহীদ দোলন লেখা নামফলক দেখা যায় না। 
জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক রমজান আলী আকন্দ জানান, ছাত্রাবাসটি ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় নামফলক লাগানো হয়নি। নামফলকটি এখন লাগানো হবে।
বগুড়া থিয়েটারের সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসান, সাংস্কৃতিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক বাবলা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি সাঈদ সিদ্দিকী, রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অমরেশ মুখার্জি এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও কুচক্রী মহলের তৎপরতায় অত্যন্ত সুকৌশলে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচিহ্ন ধ্বংস করা হচ্ছে।’
সূত্র: প্রথমআলো.কম, ১৬/১২/২০১১

No comments:

Post a Comment