Saturday, December 3, 2011



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্নীতি ও লুটপাটের সুযোগ না থাকার মনোবেদনা থেকেই বিরোধীদলীয় নেত্রী অর্থনীতিতে দেউলিয়াপনা দেখছেন।
দেশের অর্থনীতি নিয়ে খালেদা জিয়ার অভিযোগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নিজের
দেউলিয়াপনা এবং ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্টের দায়ভার তিনি দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। দেশের মানুষ শান্তিতে থাকলে উনি (খালেদা) অশান্তিতে ভোগেন। মানুষ কষ্টে থাকলে উনার মন ভালো থাকে। কারণ ক্ষমতায় থাকতে মানুষকে কিছু দিতে পারেননি। শুধুই লুটেপুটে খেয়ে ধনশালী হয়েছেন।’
আজ শনিবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৈঠকে সাংগঠনিক বিষয় উত্থাপন করেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এতে শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করেন দপ্তর সম্পাদক ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান। পরে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন, বিরোধী দলের রাজনীতি এবং দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দলীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের জন্য ঢাকা মহানগরের আসন ভেঙে যদি ১৫টি করা যায়, তবে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে দুই ভাগে ভাগ করা যাবে না কেন? এটা করে আমরা কি সর্বনাশ করলাম? এসব সমালোচনার কোনো অর্থ নেই। জনগণকে বিভ্রান্ত করাই মূল লক্ষ্য। আসলে ঢাকাবাসী ভালো থাকুক, সেটা কিছু মানুষের সহ্য হচ্ছে না বলেই এমন হা-হুতাশ।’
বিরোধীদলীয় নেত্রীর প্রতি প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আদালতে তাঁর পুত্রের বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে দুর্নীতি করা অর্থ পরিবারসহ জরিমানা দিয়ে সাদা করেছেন। এফবিআই কর্মকর্তা এসে আদালতে তাঁর পুত্রের দুর্নীতির কথা সাক্ষ্য দিচ্ছেন। এটা যে দেশের জন্য কী ভীষণ লজ্জা, সে কথা তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেননি কেন?’
ভারতের টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ক্ষতি হয়, এমন কোনো কাজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, উনি (খালেদা) ১০ বছর ক্ষমতায় ছিলেন কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারেননি কেন? টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে তখন কোনো কথা বলেননি কেন?’

সূত্র: প্রথমআলো.কম, ০৩/১২/২০১১

No comments:

Post a Comment