Friday, May 4, 2012

বাংলাদেশের সংবিধান আজ অস্তিত্বহীন: মওদুদ



বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, “বাংলাদেশের সংবিধান আজ অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। সংবিধান এবং সংসদকে সরকার অকার্যকর করে দিয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে সংবিধান এখন একটি অর্থহীন শব্দ। তাই বাংলাদেশের সংবিধান আজ অস্তিত্বহীন।”


শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে স্বদেশ জাগরণ পরিষদ (স্বজাপ) আয়োজিত ‘সংবিধান প্রদত্ত নাগরিক অধিকার এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, “৭২ থেকে ৭৫ এর মুজিব সরকারের মতো ‘এ সরকারও  সংবিধান পরিবর্তন করতে করতে খণ্ডবিখণ্ড করেছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ধনী ও দরিদ্রের জন্য সরকার সংবিধানকে আলাদা আলাদাভাবে প্রয়োগ করে।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগই দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করেছে। তারা সংবিধান লঙ্ঘন করে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে। গণতন্ত্রে বিশ্বাস না করায় কখনো গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করতে পারেনি।”

তিনি বলেন, “এই আওয়ামী লীগই বলেছিল দেশে কোনো সময়  জরুরি অবস্থা জারি করা হবে না এবং কোনো নাগরিককে বিনা বিচারে আটক রাখা যাবে না। পরে তারাই আবার জরুরি অবস্থা জারি করে তাদের প্রয়োজনে।”

এ সময় তিনি আরো বলেন, “দেশের সব মানুষ জানে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। আর এই আওয়ামী লীগ হাই কোর্টের আদেশের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষক পরিবর্তন করে।”

মওদুদ বলেন, “শেখ মুজিবের সময় চারবার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। ৭২ সালে সংবিধান তো আন্তর্জাতিকমানের ছিল। পরে সংবিধান পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ যে কলঙ্ক করেছে এই কলংঙ্ক শেখ হাসিনাও মুছতে পারবেন না। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সম্পূর্ণ রাজনৈতিকি উদ্দেশ্য করেছে এ সরকার।”

সংগঠনের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা ও স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ প্রমুখ।

এদিকে অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মওদুদ বলেন, “আমরা হাই কোর্টে একজনের জামিনের মাধ্যমে আমাদের প্রাথমিক জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছি।” এই প্রাথমিক জয়টা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সরকারের দায়ের করা বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দুটি ভুয়া মামলার প্রাথমিকভাবে একজনের জামিন নেয়া হয়েছে। এটাই আমাদের প্রাথমিক বিজয়।”

এ সময় তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহাবুবউদ্দিন খোকনের নাম নিয়ে বলেন, “কেন আপনারা দেখতে পারছেন না? ইতিমধ্যে আমাদের একজনকে জামিনের ব্যবস্থা করেছি। পর্যায়ক্রমে সবার জামিনের ব্যবস্থা করা হবে।”

বিএনপির শীর্ষ এ নেতাদের বিরুদ্ধ মামলার কারণে সরকারবিরোধী আন্দোলনে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “না এসব মামলার কারণে আন্দোলনে কোনো প্রভাব পড়বে বলে আমার মনে হয় না। কারণ সরকার এসব মামলা করেছে শুধু আন্দোলন থামানোর জন্য।” এ মামলার কারণে দেশজুড়ে আন্দোলনে আরো গতি এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির পরবর্তী কর্মসূচি কী জানাতে চাইলে মওদুদ বলেন, “বর্তমান আন্দোলন হরতাল অবরোধ অব্যাহত থাকবে। তবে এ ব্যাপারে রোববার আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।\
ঢাকা, ৪ মে:  bdnews24.com

No comments:

Post a Comment