Friday, July 1, 2011

তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল

বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি ঘটল। বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুন, ২০১১) বেলা দুইটা ৫০ মিনিটে সংসদে বিভক্তি ভোটে সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ পাসের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা বাতিল হলো।
বিভক্তি ভোটে সংবিধান সংশোধন বিলটি পাসের পক্ষে ২৯১ ও বিপক্ষে মাত্র একটি ভোট পড়ে। সাংসদেরা লবিতে গিয়ে সই দেওয়ার মাধ্যমে ভোট দেন। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা ভোটের ফলাফল সংগ্রহের পর স্পিকার তা ঘোষণা করেন। বিল পাসের ঘোষণার সময় সাংসদদের তুমুল করতালিতে সংসদ কক্ষ মুখর হয়ে ওঠে।


আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। তবে সাংসদ না হওয়ায় তিনিসহ উপস্থিত তিন মন্ত্রী ভোট দিতে পারেননি। অপর দুজন অনির্বাচিত মন্ত্রী হলেন দিলীপ বড়ুয়া ও ইয়াফেস ওসমান।
টানা প্রায় তিন ঘণ্টার আলোচনা শেষে সাংসদেরা দুই দফায় লবিতে গিয়ে বিভক্তি ভোট দেন। স্পিকার আবদুল হামিদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। বিল পাসের প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেন একমাত্র স্বতন্ত্র সাংসদ ফজলুল আজিম। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মহাজোটের ৩০৪ জন সদস্যের মধ্যে ২৯১ জন উপস্থিত ছিলেন। ১২ জন অসুস্থতার কারণে যোগ দিতে পারেননি বলে চিফ হুইপ আবদুস শহীদ জানান। বাকি একজন হলেন স্পিকার আবদুল হামিদ। দুই পক্ষের ভোট সমান না হলে স্পিকারের ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই।
বিল পাসের পর স্পিকার সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এর আগে সংবিধান সংশোধনের সব বিল রাতে পাস হয়েছে। এবারই প্রথম প্রকাশ্যে দিনের বেলায় সংবিধান সংশোধন হলো।
অন্তর্বর্তী সরকার: সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে। আগে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে নির্বাচন করার বিধান ছিল। এখন পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হবে। এই ৯০ দিনে সংসদ থাকলেও অধিবেশন বসবে না। এ জন্য সংবিধানে একটি নতুন সংশোধনী যুক্ত করা হয়েছে। আর নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের কোনো নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ রহিত করা হয়েছে।
বিরোধী দল বিএনপি-জামায়াত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপের বিরোধিতা করেছে। তারা সংসদে যায়নি। ১৯৯৬ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাত একটায় (২৬ মার্চ) ত্রয়োদশ সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা চালু হয়। এর অধীনে তিনটি নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় চার মূলনীতি পুনঃ স্থাপন, বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতার স্বীকৃতি, অবৈধ ক্ষমতা দখলে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান, নারী আসন সংখ্যা বৃদ্ধিসহ এবার ৪৮টি সংশোধনী আনা হয়েছে।
৭২ অনুচ্ছেদের উপদফায় আনা সংশোধনীর ফলে অধিবেশনে বসার ৬০ দিনের বাধ্যবাধকতা সংসদের মেয়াদের শেষ ৯০ দিনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে মন্ত্রিসভা শুধু রুটিন (নিয়মিত) কাজ করবে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শ করে নির্বাচন পরিচালনার মূল কাজটি করবে নির্বাচন কমিশন। ওই তিন মাস প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সরকারের সব অনুষঙ্গ সংবিধানের ১১৮ থেকে ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলবে। সে অনুযায়ী নির্বাচন করার পুরো কর্তৃত্ব নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে।
সংবিধানের ১২৫ অনুচ্ছেদে নতুন একটি দফা যুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, তফসিল ঘোষণার পর কোনো আদালত নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো আদেশ বা নির্দেশ দিতে পারবেন না।
বিল পাসের প্রক্রিয়া: স্পিকারসহ মহাজোটের ৩০৪ জন সাংসদের মধ্যে ২৯১ জন ভোট দেন। সংশোধনী পাসের বিভক্তি ভোটে রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, মঈন উদ্দীন খান বাদল, শাহ জিকরুল আহমেদ ও ফজলে হোসেন বাদশা লিখিত আপত্তি উল্লেখ করে ভোট দেন। তাঁরা বিলের বেশ কয়েকটি দফার ওপর সংশোধনী প্রস্তাব দেন। এই পাঁচ সাংসদ ক্ষমতাসীন মহাজোটের শরিক দলের সদস্য।
রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু তাঁদের সংশোধনীতে সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বিলোপের সুপারিশ করেন। এ ছাড়া জাতীয়তা ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংজ্ঞায় কিছুটা পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন।
মঈন উদ্দীন খান সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একজন প্রধান উপদেষ্টা ও ১০ জন উপদেষ্টা নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন।
এ সময় মেনন বলেন, ‘আমি যেসব প্রস্তাব করেছি, তা বাহাত্তরের সংবিধানের কথা। আদালতের রায়ের পর আমরা আশা করেছি, দেশ বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাবে। কিন্তু তা হয়নি। প্রস্তাবিত আইনে বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্রধর্ম, ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সুযোগ বহাল রয়েছে।’
মেনন আরও বলেন, সামরিক শাসকেরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার জন্য সংবিধানে বিসমিল্লাহ ও রাষ্ট্রধর্মের বিধান যুক্ত করেছেন। এর মাধ্যমেই দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে।
হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বিশেষ কমিটিতে কাজ করতে গিয়ে কিছু বিষয়ে একমত হতে পারিনি। ধর্ম মানুষের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য নয়। সংবিধানে বিসমিল্লাহ রাখার জন্য মুক্তিযুদ্ধ করিনি। রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম থাকা উচিত নয়।’
সংশোধনী প্রস্তাব বিভক্তি ভোটে দেওয়ার পর জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির পাঁচ সদস্য এবং নারী সাংসদ আমেনা আহমেদ প্রথমে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। এ সময় তোফায়েল আহমেদ, আবুল মাল আবদুল মুহিত, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ভোট দিয়ে ফিরে এসে জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও ন্যাপের ছয় সাংসদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। এরপর সবার শেষে বেলা দুইটার সময় তাঁরা ভোট দেন।
ফজলুল আজিম তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তির বিরোধিতা করে কয়েকটি সংশোধনী দিলেও কণ্ঠভোট ও বিভক্তি ভোটে তা নাকচ হয়ে যায়।
এ সময় আইনমন্ত্রী বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুসারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। আদালত বলেছেন, সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিছু রাখা যাবে না। সে কারণেই সংবিধানে আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা রাখার সুযোগ নেই।
ফিরেছে চার মূলনীতি: মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতি দীর্ঘ তিন যুগ পর সংবিধানে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধন আইন, ২০১১-এ বাহাত্তরের সংবিধানের এ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করে নতুন অনুচ্ছেদ সন্নিবেশ করা হয়েছে।
সংবিধানের প্রস্তাবনার প্রথম অনুচ্ছেদে ক) ‘জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের’ শব্দের পরিবর্তে ‘জাতীয় মুক্তির ঐতিহাসিক সংগ্রামের শব্দগুলো প্রতিস্থাপিত হয়েছে। খ) প্রস্তাবনার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে প্রতিস্থাপিত হয়েছে ‘আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যেসব মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তিসংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এ সংবিধানের মূলনীতি হইবে।’
অনুচ্ছেদ-৮-এর রাষ্ট্রীয় মূলনীতির দফা ১ ও ১ক)-এর পরিবর্তে ‘(১) জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এ নীতিসমূহ এবং তৎসহ এ নীতিসমূহ হইতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে’ প্রতিস্থাপিত হয়েছে।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিষয়ে অনুচ্ছেদ ৯-এ প্রতিস্থাপিত হয়েছে ‘ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করিয়া মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করিয়াছেন, সেই বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতি হইবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।’
ক্ষমতা দখল করলে সর্বোচ্চ শাস্তি: অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহ অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে সংবিধানে।
অসাংবিধানিক পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারীদের শাস্তির বিষয়ে অনুচ্ছেদ ৭ (ক)-এ বলা হয়, কোনো ব্যক্তি শক্তি প্রয়োগে বা অন্য কোনো অসাংবিধানিক পন্থায় সংবিধানের কোনো অনুচ্ছেদ রদ, বাতিল বা স্থগিত করলে কিংবা করার উদ্যোগ নিলে বা ষড়যন্ত্র করলে তা রাষ্ট্রদ্রোহ হবে এবং ওই ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে দোষী হবেন।
এ অপরাধে দোষী ব্যক্তি সংসদের আইন দ্বারা অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি: নির্বাচন কমিশনের সদস্য সংখ্যা সর্বোচ্চ পাঁচজনে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনকে যুক্তিসংগত নোটিশ না দিয়ে কোনো আদেশ না দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে সংবিধানে।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১২৫-এর (গ) অনুসারে, তফসিল ঘোষণা হয়েছে এমন কোনো নির্বাচনের বিষয়ে কোনো আদালত নির্বাচন কমিশনকে কোনো আদেশ বা নির্দেশ দেবেন না।
ধর্মের অপব্যবহার রোধ: সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির একাংশের আপত্তির মুখেও জনগণের অনুভূতির কথা বিবেচনায় নিয়ে সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য ধর্মেও সমমর্যাদা ও সম-অধিকার নিশ্চিত করার বিধান যুক্ত হয়েছে।
সংবিধানের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম (দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে/ পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে।’
সংবিধানের ২ ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সম-অধিকার নিশ্চিত করবে।
অনুচ্ছেদ-১২-তে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়ে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা বাস্তবায়নের জন্য ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা, খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদাদান, গ) রাজনৈতিক উদ্দেশে ধর্মীয় অপব্যবহার ও ঘ) কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার ওপর নিপীড়ন-বিলোপ করা হইবে’ প্রতিস্থাপিত করা হয়েছে।
জাতির পিতার স্বীকৃতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতার স্বীকৃতি ও তাঁর প্রতিকৃতি সংরক্ষণ, প্রদর্শনের বিধান করা হয়েছে। সংবিধানে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, বঙ্গবন্ধুর ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা ও একাত্তরে মুজিবনগর সরকারের জারি করা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সন্নিবেশ করা হয়েছে।
সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪-এ নতুন দফায় বলা হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতির কার্যালয় এবং সব সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রধান ও শাখা কার্যালয়, সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনসমূহে সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করতে হবে। আগে প্রধানমন্ত্রীর ছবিও টাঙানোর বাধ্যবাধকতা ছিল।
জাতির পিতার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণার টেলিগ্রাম এবং ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের জারি করা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানে সংযোজিত হয়েছে।
নারী আসন বৃদ্ধি: জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছে। এ সম্পর্কে সংবিধানে বলা হয়েছে, জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে। এ জন্য আপাতত পাঁচটি আসন বাড়ানো হয়েছে।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর স্বীকৃতি, পরিবেশ সংরক্ষণ: ক্ষুদ্র জাতি সত্তা ও নৃগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনে। উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশ নামে ২৩ ক) নতুন অনুচ্ছেদ সন্নিবেশিত হয়েছে।
সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদে একটি নতুন দফা যুক্ত হয়েছে। এ দফায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ সন্নিবেশিত হবে।


তারিখ: ০১-০৭-২০১১
সূত্র: প্রথমআলো

No comments:

Post a Comment