Monday, July 11, 2011

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযোগপত্র

গত ৩ জুলাই পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা থেকে উদ্ভূত হত্যা বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের দুটি মামলায় সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয়। ২০০৮ সালের ১১ জুন এ দুটি মামলায় প্রথম অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। পরে মামলার বিচারকালে বর্তমান সরকার ঘটনার অধিকতর তদন্তের আবেদন করে। ওই আবেদনের ওপর ভিত্তি করে বিচারিক আদালত ২০০৯ সালের ৩ আগস্ট অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ দুটি মামলায় অধিকতর তদন্ত করেন। প্রায় দুই বছর পর তিনি অধিকতর তদন্তের প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। দুটি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন একই ধরণের। ওই তদন্ত প্রতিবেদন কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে। বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদন পাঠকদের জানার জন্য ছাপা হলো:

গত ২২/০৮/২০০৪ খ্রি. তারিখ ০৯.৩৫ ঘটিকার সময় মতিঝিল থানার কর্মরত এসআই শরীফ ফারুক আহমদ নিজে বাদী হইয়া মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে এই মর্মে লিখিত এজাহার করে যে, গত ২১/০৮/২০০৪ ইং তারিখে মতিঝিল থানার বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সভা ও র‌্যালিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতে রওয়ানা হন। ১৩.৩০ ঘটিকার সময় তিনি তাহার কর্তব্যস্থল বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে উপস্থিত হইয়া ডিউটিতে মোতায়েন হন। সভাস্থলে একটি খোলা ট্রাকে নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। উক্ত তারিখ সময় অনুমান ১৭.৪০ ঘটিকায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তাহার বক্তব্য শেষ করিয়া ট্রাক হইতে নিচে নামার সাথে সাথে কে বা কাহারা ট্রাকের পাশে গ্রেনেড/বোমা নিক্ষেপ করিলে নিক্ষিপ্ত গ্রেনেড/বোমা বিস্ফোরিত হইয়া সমাবেশস্থলের কয়েকজন মারাত্মক জখম হন। তাৎক্ষণিক সেখানে উপস্থিত পুলিশ ফোর্সদের তত্ত্বাবধানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সভাস্থল ত্যাগ করিয়া চলিয়া যান। ইহার পরপরই উক্ত সমাবেশস্থলের চতুর্দিক হইতে অজ্ঞাত দুষ্কৃতিকারীরা পরিকল্পিতভাবে আরো সাত/আটটি গ্রেনেড/বোমা নিক্ষেপ করিলে উহা সমাবেশের মধ্যস্থলে বিস্ফোরিত হইয়া বহু লোকজন মারাত্মক জখমপ্রাপ্ত হয়। কর্তব্যরত পুলিশ উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় জখমীদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ নগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করে। ঘটনাস্থলে ডিউটিরত কিছু পুলিশ সদস্য আহত হইয়াছে। ঘটনার পরপর সমাগত লোকজন আতঙ্কিত ও ক্ষিপ্ত হইয়া চলমান গাড়ি ভাঙচুর ও অগি্নসংযোগ করে এবং পুলিশ সদস্যদের আহত করে। ঘটনার সংবাদ পাইয়া অন্যান্য মোবাইল প্যাট্রল পার্টিও ঘটনাস্থলে আসে। ২১/০৮/২০০৪ খ্রি. তারিখ রাত্রি অনুমান ২১.২০ ঘটিকার সময় এসআই মনির হোসেন রমনা পেট্রল পাম্প গলির মুখে পশ্চিম পাশে পড়িয়া থাকা একটি গ্রেনেড পাইয়া সাক্ষীদের মোকাবিলায় উহা জব্দ করেন এবং ঘটনাস্থল হইতে শার্ট, ছিন্নভিন্ন জুতা, স্যান্ডেল ইত্যাদি আলামত হিসাবে জব্দ করেন। এরপর সংবাদ পান যে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৩ জন, পঙ্গু হাসপাতালে ৩ জন মৃত্যুবরণ করেন। তখন তিনি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে সঙ্গীয় এসআই সৈয়দ মোমিনুল আহসান, এসআই খন্দকার রেজাউল হাসান ও সঙ্গীয় কংগণসহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপতালে রওয়ানা হন এবং তথায় উপস্থিত হইয়া মৃত ব্যক্তিদের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন, ডিবির ফটোগ্রাফার দ্বারা লাশের ছবি সংগ্রহ করেন। পঙ্গু হাসপাতালে মৃত ব্যক্তিদের ব্যাপারে তেজগাঁও থানার পুলিশ কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়াছে। এই ঘটনার সময় সরকারি ও জনসাধারণের সম্পদ ও জীবন রক্ষার্থে কর্তব্যরত পুলিশ গ্যাস ফায়ার ও শট গানের গুলি নিক্ষেপ করিয়াছে। এই ব্যাপারে পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হইতেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ব্যস্ত থাকায় এজাহার করিতে বিলম্ব হইয়াছে। তিনি এজাহারে আরো উল্লেখ করিয়াছেন যে, অজ্ঞাতনামা কতিপয় দুষ্কৃতকারী হত্যার উদ্দেশ্যে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই গ্রেনেড/বোমা হামলা করিয়াছে। বাদীর উক্ত এজাহার থানার কর্তব্যরত এসআই মো. শাহ আলম নিয়মিত মামলা হিসাবে গণ্য করিয়া এজাহারের কলাম পূরণ করেন ও নির্দিষ্ট স্থানে স্বাক্ষর করেন। মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার লিখিত নির্দেশে উক্ত থানার এসআই আমির হোসেন মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন।
অত্র মামলাটি রুজু হওয়ার পর মতিঝিল থানার তৎকালীন এসআই মো. আমির হোসেন মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন, মামলার আলামত হিসাবে গ্রেনেডসহ অন্যান্য আলামত জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করেন। তিনি মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। ময়নাতদন্তের নিমিত্তে লাশ মর্গে প্রেরণ করেন। মৃতের আত্মীয়স্বজনের শনাক্তমতে লাশ হস্তান্তর করেন। অ-শনাক্তকৃত লাশ আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের নিকট দাফনের ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে হস্তান্তর করেন। অত্র মামলা রুজু হওয়ার পূর্বেই উদ্ধারকৃত সেফটিপিন লাগানো তাজা গ্রেনেডগুলির দুইটি গ্রেনেড সেনাবাহিনীর বোমা বিশেষজ্ঞরা তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে মামলার মূল্যবান আলামতগুলো বিনষ্ট করে। পরদিন ২২/০৮/২০০৪ তারিখ এই মামলার আরো একটি তাজা গ্রেনেড এবং কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রাপ্ত একটি তাজা গ্রেনেড সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞদল ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নিয়ে যায় এবং সেখানে ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তার সামনে ধ্বংস করে। তাহার সময় ২২/০৮/২০০৪ তারিখ আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জনাব আবদুল জলিল এবং আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরী দুটি পৃথক অভিযোগ দাখিল করিলে তিনি তাহা এজাহারের সাথে সংযুক্ত করার নিমিত্তে আদালতে প্রেরণ করেন। অতঃপর ২৩/০৮/২০০৮ ইং মামলাটির তদন্তভার ডিবির ওপর ন্যস্ত করিলে ডিসি ডিবির নির্দেশে পুলিশ পরিদর্শক সামছুল ইসলাম মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করিলেও তিনি ২৩/০৮/২০০৮ ইং তারিখ হইতে ২৫/০৮/২০০৪ ইং পর্যন্ত মামলার তদন্ত কার্যক্রম গ্রহণ করেন নাই। অতঃপর মামলাটি সিআইডি অফিস স্মারক নং-সিআই/ঢাকা/পিডি/১০৯(২)-০৪/১৩৫৬৫/১(৪) তারিখ ২৫/০৮/২০০৪ ইং মূলে সিআইডি অধিগ্রহণ করিয়া তদন্তভার অতিরিক্ত আইজিপি সিআইডির নির্দেশক্রমে এএসপি জনাব আবদুর রশিদ গ্রহণ করেন। তিনি তদন্তভার গ্রহণ করিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনাস্থলের খসড়া মানচিত্র অংকন, সূচিপত্র প্রস্তুতসহ আরো কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করেন। তাহার তদন্তকালে ৬৪ জন সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কাঃ বিঃ ১৬১ ধারা মোতাবেক লিপিবদ্ধ করেন। তিনি আসামি জজ মিয়া টেন্ডল, আবুল হাশেম রানা এবং শফিকুল ইসলামসহ মোট ২০ (বিশ) জনকে গ্রেপ্তার করেন। তিনি জজ মিয়া টেন্ডল, আবুল হাশেম রানা এবং শফিকুল ইসলামদেরকে দিয়ে ঘটনায় সম্পৃক্ততার বিষয়ে কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করান। যাহা পরবর্তীতে সাজানো জবানবন্দি হিসাবে প্রমাণিত হয়।
তাহার তদন্তকালে ইন্টারপোল ও FBI পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাহারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে, আলামত পর্যালোচনা করে এবং কিছু আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ইন্টারপোল তাহাদের সাথে নিয়ে যায়। আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে একটি রিপোর্ট প্রদান করে। রিপোর্টটি মামলার নথিতে সংযুক্ত আছে। তিনি গত ২৫/০৮/২০০৪ ইং তারিখ হইতে ২৪/১২/২০০৫ ইং তারিখ পর্যন্ত এই দীর্ঘ সময় তদন্তকালে ইতিপূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে মুফতি হান্নান কয়েকবার চেষ্টা চালানোর প্রমাণাদি থাকা সত্ত্বেও মুফতি হান্নান সম্পর্কে কোনো কিছুই করেন নাই। তাহার তদন্তের শেষ পর্যায়ে ০৫/১১/২০০৫ তারিখ মুফতি হান্নান অন্য মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সত্ত্বেও এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখান নাই বা কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করেন নাই। তিনি অবসরে চলিয়া যাওয়ায় সহকারী পুলিশ সুপার জনাব মুন্সী আতিকুর রহমানকে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়।
সহকারী পুলিশ মুন্সী আতিক ২৪/১২/২০০৫ তারিখ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। তিনি এএসপি আবদুর রশিদের ধারাবাহিকতায় একই প্রকার তদন্ত করেন। ২০০৬ সালে মুফতি হান্নানকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করিলে মুফতি হান্নান বিভিন্ন স্থানে ২১ শে আগস্ট/০৪ গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন বোমা ও গ্রেনেড হামলা মামলায় জড়িত মর্মে দোষ স্বীকার করা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাহার মামলায় তাহাকে গ্রেপ্তার করেন নাই বা তাহার দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করেন নাই। তিনি ২২/০৮/২০০৭ ইং তারিখ পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত করেন। মামলা তদন্তের প্রথম হইতেই বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন মামলা তদন্ত তদারকি করেন। তিনি তাহার তদারকির সময় মামলাটি সঠিক পথে তদন্তের ব্যবস্থা না করিয়া ভিন্ন পথে নেওয়ার কার্যক্রম গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে সিআইডি ঢাকার স্মারক নং-সিআই/ ঢাকা মেট্রো/পিডি/১০৯(২)/০৪/১০০৯ক/১(২) তাং ৩১/০৭/২০০৭ ইং মোতাবেক মামলার তদন্তভার সহকারী পুলিশ সুপার জনাব মো. ফজলুল কবীরের ওপর ন্যস্ত করা হইলে তিনি গত ২২/০৮/২০০৭ তারিখ ডকেট পাইয়া মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। তাহার তদন্তকালে তিনি সিলেট শহরে হজরত শাহজালাল (রঃ) মাজারে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীকে গ্রেনেড হামলা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সী, মহিবুল্লা _ অভি _ মফিজ, শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল, মাওলানা আবু সাঈদ _ ডা. জাফর এবং অন্য মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আবুল কালাম আজাদ _ বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, রফিকুল ইসলাম সবুজদের অত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখাইয়া রিমান্ডে আনিয়া ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তা ছাড়া আসামি আরিফ হাসান সুমন ও শাহদাত উল্লাহ জুয়েলকে সরাসরি গ্রেপ্তার করিয়া রিমান্ডে আনিয়া জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে শাহদাত হোসেন পূর্ব হইতে অসুস্থতাজনিত কারণে কথা বলিতে না পারায় কোনো বক্তব্য প্রদান করেন নাই। বাকি আসামিরা ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করায় ও অপরাপর আসামিদের নাম প্রকাশ করায় তাহাদের দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি কাঃবিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক লিপিবদ্ধ করান। তাহার তদন্তকালে প্রাপ্ত তথ্য, সাক্ষ্য প্রমাণে ঘটনার অপরাধে প্রাথমিকভাবে ১) মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সী ওরফে আবুল কালাম ওরফে আবদুল মান্নান, ২) মহিবুল্লাহ মফিজুর রহমান ওরফে অভি, ৩) শরিফ শাহেদুল আলম বিপুল, ৪) মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, ৫) আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, ৬) মো. জাহাঙ্গীর আলম, ৭) হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, ৮) শাহাদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, ৯) হোসাইন আহম্মেদ তামিম, ১০) মো. আবদুস সালাম পিন্টু, ১১) মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, ১২) আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, ১৩) মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ, ১৪) মো. উজ্জ্বল ওরফে রতন, ১৫) আলহাজ মাওলানা মো. তাজউদ্দিন, ১৬) মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, ১৭) আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, ১৮) মো. খলিল, ১৯) জাহাঙ্গীর আলম বদর, ২০) মো. ইকবাল, ২১) আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, ২২) লিটন ওরফে মাওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জুবায়ের, ২৩) ওমর ফারুক, ২৪) শুভ, ২৫) ফেরদাউস, ২৬) বাবু, ২৭) আহসান উল্লাহ কাজল, ২৮) মো. মাসুদের বিরুদ্ধে দঃবিঃ ১২০বি/৩২৪/৩২৬/৩০২/৩০২/১০৯/৩৪ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হয়। ক্রমিক নং ১ হইতে ২২ পর্যন্ত আসামিদের নাম ও ঠিকানা সঠিক পাওয়ায় তাদেরকে বিচারের জন্য সোপর্দ করেন। তদন্ত শেষে তিনি মতিঝিল থানার অভিযোগপত্র নং-৫৩০ তারিখ ০৯/০৬/২০০৮ ইং ধারা : ৩২৪/৩২৬/১২০খ/১০৯/৩০৭/৩০২/৩৪ পেনাল কোড এবং অভিযোগপত্র নং-৫০১ তারিখ ০৯/০৬/২০০৮ ইং, ধারা ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের (সংশোধিত ২০০২) এর ৩, ৪ ও ৬ ধারা মূলে দুইটি পৃথক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় আসামি ওমর ফারুক, শুভ, ফেরদৌস, বাবু এবং অভিযুক্ত আসামি আহসান উল্লাহ কাজল, মো. মাসুদদ্বয় মৃত্যুবরণ করায় তাহাদেরকে বিচারে সোপর্দ করেন নাই। তাহার তদন্তকালে পূর্ববর্তী তদন্ত কর্মকর্তা এএসপি জনাব আ. রশিদ কর্তৃক গ্রেপ্তারকৃত জজ মিয়া, আবুল হাশেম রানা ও শফিকুল ইসলামদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সাজানো প্রমাণিত হওয়ায় এবং আসামি শৈবাল সাহা পার্থ, হাবিব ওরফে আবদুল হান্নান, বাদশা মিয়া, আবদুর রহমান ওরফে রহমান, মো. আবদুর রহিম, মো. ওলিউল্লাহ ওরফে ওয়ালিল, মো. হাসান ওরফে তুষার, মো. জহির হোসেন ওরফে লিটন, মো. আক্তারুজ্জামান ওরফে আতা, মনির ওরফে পিচ্চি মনির, আইয়ুব আলী খান _ আইয়ুব, জজ মিয়া টেন্ডল _ জালাল আহম্মেদ _ জালাল, মো. মোখলেসুর রহমান, মো. মঞ্জুর হোসেন, হাজী শোয়েব সাইফ _ দিকন, আবুল হাশেম রানা, শফিকুল ইসলাম শফিক, মো. শাহ আলম, খন্দকার তানভিরুল ইসলাম জয়, মোল্লা মাসুদ, ত্রিমতি সুব্রত বাইন _ শুভ্র, মো. মকবুল হোসেন _ মুকুল, রবিন, জাহিদুর রহমান _ জাহির, হাশেম _ আবুল হাশেম রানা ও শফিকুল ইসলামদের মিথ্যা ও সাজানো জবানবন্দি গ্রহণ করার কারণে ও প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করিয়া মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার কারণে পূর্ববর্তী তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসপি জনাব আবদুর রশীদ, এএসপি জনাব মুন্সি আতিকুর রহমান এবং মামলার তদন্ত তদারকির কর্মকর্তা বিশেষ পুলিশ সুপার জনাব মো. রুহুল আমিনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করিলে মতিঝিল থানার মামলা নং-৫২ তারিখ ২৯/০৩/০৯ ইং, ধারা-২০১/৩৩০ পেনাল কোড রুজু হয়। এএসপি জনাব ফজলুল কবির কর্তৃক অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় মামলার প্রসিকিউশন পক্ষ মামলার তদন্তকালে কিভাবে, কে গ্রেনেড সংগ্রহ, সরবরাহ করল, কারা এ সংগ্রহ ও সরবরাহ কাজে জড়িত তাহাদের বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো প্রকার অভিমত প্রদান করেন নাই মর্মে বিজ্ঞ আদালতকে অবহিত করেন। আর্জেস গ্রেনেড সংগ্রহ ও সরবরাহকারীদের তথা মূল পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে আরো তদন্ত এবং সঠিক, পরিপূর্ণ ও প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে Further Investigation-এর প্রয়োজনীয়তা পরিলক্ষিত হওয়ায় প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত ইং ০৩/০৮/২০০৯ তারিখ অধিকতর তদন্তের আদেশ দেয়। উক্ত আদেশ মোতাবেক গত ১২/০৮/২০০৯ ইং তারিখ সিআইডি ঢাকার স্মারক নং-সিআই/ঢাকা মেট্রো/পিডি/২৩-০৭/৬৭০৭/১(৪) তারিখ ১২/০৮/২০০৯ ইং মূলে আমাকে তদন্তভার দেওয়া হয়। আমি মামলার তদন্তভার গ্রহণ করিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। পূর্বের তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক অংকনকৃত খসড়া মানচিত্র ও সূচি সঠিক পাই। আমার তদন্তকালে আসামিদের অপরাধ ও ষড়যন্ত্রের স্থানসমূহ পরিদর্শন করিয়া খসড়া মানচিত্র ও সূচিপত্র তৈরি করি। সাক্ষীর জবানবন্দি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করি। কিছু সাক্ষীর জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। মামলার তদন্তকালে আরো কিছু আলামত জব্দ করা হয়।
আমার তদন্তকালে মোট ১৭ জন্য আসামি গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিদের মধ্যে মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, আবদুল মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম আহম্মদ ওরফে জিএম ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করিয়া আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। পূর্বের অভিযুক্ত আসামি আবদুস সালাম পিন্টু, হাফেজ আবু তাহের আরিফ হোসেন সুমন, মুফতি মঈন ওরফে আবু জান্দালকে রিমান্ডে আনিয়া জিজ্ঞাসাবাদ করি। আসামি মুফতি মইনউদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল মতিঝিল থানার মামলা নং ০৬ তারিখ ২০/০১/২০০১ ইং ধারা ৩০৭/৩২৫/৩২৬/৩০২/৩৪ দঃ বিঃ সংক্রান্তে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানকালে অত্র মামলার ঘটনায় জড়িত মর্মে উল্লেখপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। তাহার জবানবন্দির কপি অত্র মামলার সঙ্গে সংযুক্ত করা হইল। অভিযুক্ত আসামি মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সী স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে প্রার্থনা জানাইয়া গত ০৭/০৪/২০১১ ইং তারিখ পুনরায় আদালতে কাঃ বিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক একটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
মামলার ঘটনাস্থল পরিদর্শন, জব্দকৃত আলামত, প্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, আসামিদের স্বীকারোক্তি ও পারিপাশ্বর্িক সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার প্রকাশ পায় যে, সাবেক মতিঝিল বর্তমানে পল্টন থানাধীন বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের স্থানটি মামলার ঘটনাস্থল। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে থাকে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা এই দলের সভানেত্রী। ধর্মভিত্তিক রাজনীতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ও সমমনা সাম্প্রদায়িক কিছু রাজনৈকি দল এই নীতির ঘোর বিরোধী। বাংলাদেশ হইতে বহু মাদ্রাসার ছাত্র এবং মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত কিছু আলেম আফগানিস্তানে তালেবানের পক্ষে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। তাহারা সমরাস্ত্র প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তাহাদের মধ্যে মাওলানা শেখ আবদুস সালাম, মুফতি আবদুল হান্নান, মাওলানা শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা আবদুর রউফ, মাওলানা সাবি্বর, মাওলানা শেখ ফরিদ. হাফেজ ইয়াহিয়া, মাওলানা আবু বক্কর, মাওলানা তাজউদ্দীন, হাফেজ আবু তাহের, হাফেজ জাহাঙ্গীর বদরসহ তাহাদের অন্যান্য সঙ্গীরা যুদ্ধ শেষে বাংলাদেশে ফেরত আসিয়া বাংলাদেশে কথিত ইসলামী হুকুমত কায়েম করার নামে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশ গঠন করিয়া আফগানিস্তানের তালেবান স্টাইলে এ দেশে জঙ্গি তৎপরতা আরম্ভ করে। তাহাদের এই জঙ্গি তৎপরতার জন্য সরকার উক্ত সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তাহাদের তৎপরতাকে বেগবান করার জন্য তাহারা বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ করে কিছু কওমি মাদ্রাসায় এবং পাহাড়ি ও চর এলাকায় সশস্ত্র প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে। তাহারা কাশ্মীরী বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হিজবুল মুজাহিদীন, তেহরিক-ই-জিহাদীল ইসলামী (টিজেই), লস্কর-ই-তৈয়বা, পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও বার্মার (মিয়ানমার) আরাকানের রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) ও অজানা জঙ্গি সংগঠনের মাধ্যমে একত্রিত করিয়া বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা চালাইতে থাকে। তাহারা এই জঙ্গি তৎপরতা চালাইতে আওয়ামী লীগসহ বামপন্থী রাজনৈতিক ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও নেতাদের বিরুদ্ধে এবং সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীকে আক্রমণসহ বিভিন্ন তৎপরতা চালাইতে মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত কিছু ব্যক্তি দেশের প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার বাহিরে গিয়ে ফতোয়া জারি করিয়া নিজেদের হাতে আইন তুলিয়া নিয়া বিচার করিতে থাকে। আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন সংগঠন ফতোয়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয় এবং ফতোয়াবাজদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। মহামান্য হাইকোর্টের রায় ফতোয়া প্রদানকারীদের বিপক্ষে যাওয়ায় তাহারা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং আওয়ামী লীগকে ইসলাম বিদ্বেষী মনে করে। তাহারা আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাহাদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করিয়া তাহাকেসহ দলের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের হত্যা করার জন্য বিভিন্ন সময় ষড়যন্ত্র চালাইতে থাকে।
সেই ধারাবাহিকতার আসামি মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সির স্বীকারোক্তি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ মোতাবেক মুফতি আবদুল হান্নান, মাওলানা আবদুর রউফ, মাওলানা শেখ ফরিদ আহম্মেদ, মাওলানা সাবি্বর আহম্মেদ, জাহাঙ্গীর বদর, হাফেজ ইয়াহিয়া, মুফতি আবদুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান মাওলানা আবু বকর, আবু মুসা, লোকমান ও অন্যান্য জঙ্গিগণ ২০০০ সালের জুলাই মাসের প্রথম দিকে মোহাম্মদপুর সুপার মার্কেটের কাছে তাহাদের অফিসে বসিয়া আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ওপর হামলাপূর্বক তাহাদের প্রতিহত করিয়া তাহাদের ভাষার আলেমসমাজ ও ইসলামকে বাঁচানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সিদ্ধান্ত মোতাবেক খিলগাঁও থানা এলাকার মুগদা অফিসে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, জুলাই/২০০০ মাসে কোটালীপাড়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি সভায় তাহাকে হত্যা করা হবে। সেই মোতাবেক উপরোক্ত জঙ্গিরা কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতিয়া তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলীয় নেত্রী, স্থানীয় ব্যক্তিদের হত্যা ও সরকার উৎখাতের জন্য মঞ্চের পার্শ্ববর্তী পুকুর পাড়ে বোমা পুঁতিয়া রাখে কিন্তু তাহা নির্ধারিত তারিখ ও সময়ের মধ্যে স্থানীয় চায়ের স্টলের কর্মচারীর মাধ্যমে পুলিশ খবর পাইয়া বোমাটি উদ্ধার করিয়া ফেলায় হত্যা ও সরকার উৎখাতের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এই সংক্রান্তে কোটালীপাড়া থানার মামলা নং-০৫ তাং-২০/০৭/২০০০ ইং বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের ৪ ধারাসহ বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (খ) এবং ধারা ১২১/১২১ক/১২২/১২৪ক/৩৪/১০৯ দণ্ডবিধিতে মামলা রুজু হয়। উক্ত মামলাসমূহ তদন্ত শেষে আসামি মুফতি হান্নান, মাওলনা আবদুর রউফ, মাওলানা সাবি্বর আহম্মেদ, হাফেজ ইয়াহিয়া, মাওলানা শেখ ফরিদ, মুফতি আবদুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান জাহাঙ্গীর বদর, মাওলানা আবু বকর, আবু মুসা, লোকমান, মারফত আলী ওরফে মারফত ওরফে তারেক ওরফে ওয়াসিম আক্তার, আবদুল ওয়াদুদ ওরফে মেহেদী হাসান ওরফে গাজী খান, খন্দকার কামাল উদ্দিন সাকেরসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল হয়। একই সময়ে আসামি মুফতি আবদুল হান্নানের দখল হইতে বে-আইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়ায় তাহার বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ থানার মামলা নং-২১(০৭)২০০০ ধারা-১৯ (ক) অস্ত্র আইন এবং ফরিদপুর শহরে বোমা হামলা করিয়া মানুষ হত্যা করার কারণে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার মামলা নং-১৮ (০৭) ২০০০ ধারা ৩২৬/৩০২/৩৪ দঃ বিঃ-তে অভিযুক্ত হয়। আবার ২০০১ সালে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবার সময় সিলেটেও মুফতি হান্নান ও তাহার সহযোগীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বোমা হামলা করিয়া হত্যা করার পরিকল্পনা করে। কিন্তু সুযোগ বুঝিয়া বোমা আক্রমণ করিতে না পারিয়া বোমাসহ সিলেট শহরে ডা. আরিফ আহাম্মদ মমতাজ, ওরফে রিকার বাসা নং-১১৯ (শুভেচ্ছা)তে মুফতি হান্নানের সহযোগী আসামি আবু মুসা ও লোকমান বোমাসহ ফেরত আসিয়া বোমা নিষ্ক্রিয় করিতে গিয়া বোমা বিস্ফোরিত হইয়া উপরোক্ত আবু মুসা ও লোকমান মারা যায়। তাহাদের সহযোগী অত্র মামলার আসামি মাওলানা আবু সাঈদ অন্য কক্ষে থাকায় প্রাণে বাঁচিয়া যান। এই সংক্রান্ত সিলেট কোতোয়ালি থানার মামলা নং-৬২(৯)০১ ধারা-বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের ৩, ৪ ও ৬ এবং মামলা নং০৬৩(৯)০১ ধারা ৩০২/৩৪ দঃ বিঃ রুজু হয়। উক্ত মামলা তদন্তে শেষে মুফতি আবদুল হান্নান ও আসামি আবু সাঈদ ওরফে ডাক্তার জাফরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি সিলেট থানার অভিযোগপত্র নং- যথাক্রমে-৯২৫ এবং ৯২৬ উভয় তারিখ-১৬/০৯/০৭ দাখিল করা হয়। এইভাবে আসামি মুফতি আবদুল হান্নান তাহার জঙ্গীগোষ্ঠী পূর্ব হইতেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য নেতা-নেত্রীদের হত্যা করার চেষ্টা করিতে থাকে।
অন্যদিকে গ্রেপ্তারকৃত আসামি আবদুস সালাম পিন্টুর (বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারে উপমন্ত্রী) সহোদর মাওলানা তাজউদ্দিন পাকিস্তানে মাদ্রাসায় লেখাপড়াকালে কাশ্মীরভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা, তেহরিক-ই-জিহাদীল ইসলামী (টিজেই) এবং হিজবুল মুজাহিদীনের সাথে জড়িত হয়। তাহার সাথে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। মুফতি আবদুল হান্নান উপরোক্ত মামলাসমূহে অভিযুক্ত হইয়া পলাতক থাকা অবস্থায় ঢাকার বাড্ডা এলাকায় বসবাস করে এবং তাহার সহযোগী (সহোদর) মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, শরিফ-শাহেদুল আলম বিপুল, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মওলানা আবু তাহের, শাহাদত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ, মো. উজ্জল ওরফে রতন, মাওলানা মো. তাজউদ্দিন, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো. খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, লিটন ওরফে মওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জুবায়ের, ওমর ফারুক, শুভ, ফেরদৌস, রাতুল আহম্মেদ বাবু ওরফে রাতুল বাবু, আহসান উল্লাহ কাজল, মো. মাসুদ ও তাহার অন্যান্য সহযোগী, বিভিন্ন প্রকার জঙ্গি তৎপরতা চালাইতে থাকে মুফতি হান্নান তাহার কোটালীপাড়া থানার মামলা এবং ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা এলাকায় বোমা আক্রমণ-সংক্রান্ত হত্যা মামলার সহযোগী আসামি মুফতি কামাল উদ্দিন শাকেরসহ সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সাথে যোগাযোগ করিয়া মামলা হতে অব্যাহতি পাওয়ার চেষ্টা চালাইতে থাকে। অত্র মামলার আসামি মাওলানা আবদুস সালাম, মুফতি আবদুল হান্নান, মাওলানা শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা আবদুর রউফ, মাওলানা সাবি্বর, মাওলানা শেখ ফরিদ, হাফেজ ইয়াহিয়া, মাওলানা আবু বকর, মাওলানা তাজউদ্দিন, হাফেজ আবু তাহের, হাফেজ জাহাঙ্গীর বদর ও হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী বাংলাদেশের অন্যান্য নেতারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাহার দলের নেতা-নেত্রীদের হত্যা করার চেষ্টাকালীন ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় আসিলে বিএনপির কুমিল্লা মুরাদনগরের এমপি শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এবং চট্টগ্রামের এমপি সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মাধ্যমে তাহাদের বিভিন্ন কাজকর্মে সহযোগিতা নেয়।
সাক্ষীদের জবানবন্দি ও আসামিদের স্বীকারোক্তি হইতে প্রকাশ পায় যে, আসামি মুফতি হান্নান, আবদুল মাজেদ ভাট, আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ জিএম ও মাওলানা আবদুস সালাম ২০০৩ সালে কাশ্মীরভিত্তিক সংগঠন হিজবুল মুজাহিদীনের নেতা আবদুল মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট ও তেহরিক-ই-জিহাদীল ইসলামী (টিজেআই) নেতা মুজ্জাফর শাহ, মাওলানা তাজউদ্দিন ও মুফতি আবদুল হান্নানের সহায়তায় বাংলাদেশে আসে এবং তাহাদের কর্মতৎপরতা চালানোর জন্য পাকিস্তান হইতে গ্রেনেড ও গুলি আনে। এই গ্রেনেডের কিছু অংশ মুফতি হান্নান তাহার সহযোগীর মাধ্যমে ভারতে পাঠায় এবং কিছু গ্রেনেড মুফতি হান্নান ও মাওলানা তাজউদ্দিন তাহাদের নিকট রাখিয়া দেয়। ওই সময় আসামি মাওলানা আবদুস সালাম, মাওলানা তাজউদ্দিন, মুফতি হান্নান, মাওলানা আবদুর রউফ ও আবদুল মাজেদ ভাট মোহাম্মদপুর সাত মসজিদে বসিয়া ষড়যন্ত্রমূলক মিটিং করিয়া সিদ্ধান্ত দেয় যে, তাহাদের জঙ্গি তৎপরতা চালানোর 'প্রধান বাধা' আওয়ামী লীগ বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের হত্যা করিতে পারিলে তাহাদের কর্মতৎপরতা চালানোর কাজ সুগম হইবে, তখন বিএনপির নেতৃত্বে জোট সরকার ক্ষমতায় থাকায় এই আক্রমণ চালানো সহজ হইল বিধায় তাহারা পুনরায় মুরাদনগরের এমপি আসামি মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের সহযোগিতায় ২০০৪ সালের প্রথম দিকে বনানীস্থ 'হাওয়া ভবন' গিয়া আসামি তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া ও আসামি হারিছ চৌধুরীর সাথে সরাসরি যোগাযোগ করিয়া পরিচিত হয় এবং শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যাসহ তাহাদের বিভিন্ন কাজকর্ম চালাইবার জন্য সহযোগিতা চায়। তারেক জিয়া উপস্থিত সকলের সামনে তাহাদের কাজকর্মে সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। অতঃপর শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা করার জন্য মুফতি হান্নান তাহার বাড্ডার অফিস, মোহাম্মদপুর ও অন্যান্য জায়গায় তাহার অন্যান্য সহযোগীদের নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক মিটিং করে। ঐ সময় (২০০৪ সাল) তাহারা তাহাদের নিকট থাকা গ্রেনেডের কিছু গ্রেনেড দিয়ে পূর্ব পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত মোতাবেক আওয়ামী লীগ নেতা বদর উদ্দিন আহম্মদ কামরান, সিলেট সিটি মেয়র, আওয়ামী লীগ নেত্রী জেবুন্নেছা হক, এমপি সিলেট, আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, এমপি সুনামগঞ্জ এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা চালাইয়া হত্যা করার চেষ্টা করে। সৌভাগ্যক্রমে তাহারা বাঁচিয়া যান কিন্তু প্রত্যেকটি ঘটনায় বেশ কিছু লোক হতাহত হয়।
পুনরায় ২০০৪ সালের আগস্ট মাসে মুফতি হান্নান ও তাহার সহযোগীরা জানিতে পারে যে, সিলেটে গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে ঢাকার মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ সমাবেশ করিবে। তখন তাহারা সিদ্ধান্ত নেয় যে, সেখানে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর আক্রমণ করিবে। তাহাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পুনরায় তাহারা তারেক জিয়ার সাথে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই মোতাবেক মুফতি হান্নান আগস্ট/২০০৪-এর মাঝামাঝি সময়ে একদিন মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা শেখ ফরিদ, মাওলানা তাজউদ্দিনসহ এনজিও সংগঠন আলমারকাজুল ইসলামের অফিসে সমবেত হইয়া আল মারকাজুল ইসলামের একটি মাইক্রোবাসযোগে আল মারকাজুল মওলানা আবদুর রশিদকে সাথে নিয়া বনানীস্থ তারেক জিয়ার অফিস হাওয়া ভবনে যায়। সেখানে মাওলানা আবদুর রশিদকে ভবনের নিচতলায় রাখিয়া তাহারা দোতলায় তারেক জিয়ার অফিসে যায়। সেখানে তারেক জিয়া, লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামী নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, তৎকালীন ডিজি এনএসআই ব্রিগেডিয়ার আবদুর রহিম, তৎকালীন ডাইরেক্টর সিআইডি ব্রিগেডিয়ার (পরে মেজর জেনারেল) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরীর সাথে ষড়যন্ত্রমূলক মিটিং করে এবং শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হামলা করে হত্যা করার সহযোগিতা চায়। তারেক জিয়া তাহাদের উপস্থিত সকলের সামনে মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীদের সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। আশ্বাস মোতাবেক মুফতি হান্নান ও তাহার অন্য সহযোগীরা মোহাম্মদপুর, বাড্ডাসহ বিভিন্ন জায়গায় পুনরায় মিটিং করিয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কর্মপন্থা গ্রহণ করে। এই সময় তাহারা নিশ্চিত হয় যে, ২১শে আগস্ট/২০০৪ তারিখ মুক্তাঙ্গনে আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সভা ও র‌্যালি হইবে তাহাতে শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকিবেন। সেই মোতাবেক ১৮ই আগস্ট/০৪ তারিখে তৎকালীন সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ধানমণ্ডির সরকারি বাসায় মাওলানা হাফেজ আবু তাহের, মাওলানা তাজউদ্দিন, মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সী পুনরায় মিটিং করে এবং সেখানে আসামি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, মো. হানিফ, মালিক হানিফ পরিবহন ও আরিফুল ইসলাম আরিফ ওয়ার্ড কমিশনার সিদ্ধেশ্বরী ওয়ার্ড, ঢাকা উপস্থিত থাকে। তাহাদের উপস্থিতিতে আবদুস সালাম পিন্টু ও বাবর জানায় যে, হানিফ ও আরিফ তাহাদের সকল প্রকার সহযোগিতা করিবে এবং তাহারে সকল প্রকার প্রশাসনিক সহযোগিতা থাকিবে। অতঃপর ২০শে আগস্ট /২০০৪ তারিখ মুফতি হান্নানের সহযোগী আসামি আসহান উল্লাহ কাজল ও মুফতি মঈন আবু জান্দাল, তৎকালীন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ধানমণ্ডির বাসা হইতে মাওলানা তাজউদ্দিনের সরবরাহকৃত ১৫টি গ্রেনেড সংগ্রহ করিয়া পশ্চিম মেরুল বাড্ডার আহসান উল্লাহ কাজলের ভাড়া করা বাসায় মুফতি হান্নানের অফিসে নিয়ে আসে এবং সেখানে মুফতি হান্নান মুন্সীসহ হরকাতুল জিহাদের সদস্যরা পুনরায় মিটিং করে এবং ২১শে আগস্টের গ্রেনেড আক্রমণের কৌশল ও চূড়ান্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করে। অতঃপর ২১শে আগস্ট/০৪ তারিখে কাজলের উক্ত বাসা হইতে সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়া আসামি মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সী ওরফে আবুল কালাম ওরফে আবদুল মান্নান ও মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফরদের নির্দেশনায় ও তত্ত্বাবধানে মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মো. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তহের, শাহাদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ও ওরফে খাজা ওরফে আবু জানদাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লা ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ, মো. উজ্জল ওরফে রতন, মহিবুল্লাহ মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো. খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো. ইকবাল, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জুবায়ের, ওমর ফারুক, শুভ, ফেরদৌস বাবু ওরফে রাতুল বাবু, আহসান উল্লাহ কাজল ও মো. মাসুদগণ সরাসরি বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সভায় গ্রেনেড হামলা চালানোর জন্য গ্রেনেডসহ কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হইয়া বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে যায় এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করে পরস্পর যোগসাজশে একই উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালাইয়া আওয়ামী লীগ নেত্রী বেগম আইভি রহমানসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীকে হত্যা ও হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখম করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আহত হন। এই আক্রমণ চালানোর আগে মুফতি হান্নানের ছোট ভাই আসামি মহিবুল্লাহ ওরফে অভি টেলিফোনে আসামি শরীফ শাহেদুল আলম বিপুলকে জানায়, আগামীকল্য অর্থাৎ ২১/০৮/২০০৪ ইং তারিখে শেখ হাসিনাকে হালকা নাশতা করানো হইবে। অর্থাৎ তাহাকে গ্রেনেড আক্রমণ করিয়া হত্যা করা হইবে। তা ছাড়া উক্ত শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল ঘটনার আগের দিন আহসান উল্লাহ কাজলের বাসায় অন্যদের সাথে এই ঘটনার বিষয়ে ষড়যন্ত্রমূলক মিটিং-এ উপস্থিত ছিল।
তদন্তে আরো প্রকাশ পায় যে, আওয়ামী লীগ আয়োজিত ২১শে আগস্ট/০৪ তারিখে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ ও জনসভায় আসামি ডিসি পূর্ব ডিএমপি, ঢাকা মো. ওবায়দুর রহমান খান ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেনেড আক্রমণ পরিচালনার সুবিধার্থে ও রক্ষাকল্পে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত অবিস্ফোরিত তাজা গ্রেনেড আলামত হিসেবে জব্দ করার পরও তাহা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেন নাই এবং বিজ্ঞ আদালতের অনুমতি গ্রহণ না করিয়া উদ্দেশ্যমূলকভাবে সেনাবাহিনী কর্তৃক গ্রেনেড ধ্বংস করাইয়াছেন। তা ছাড়া ঘটনায় আক্রান্ত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদর দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা না নিয়া লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপের মাধ্যমে অস্বাভাবিক অবস্থা সৃষ্টি করিয়া আহতদের হাসপাতালে পাঠাইবার কাজে বাধা সৃষ্টি করেন এবং মামলার ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা না নিয়া বরং আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের লাঠিপেটা করিয়া গ্রেপ্তার করেন এবং তাহাদের বিরুদ্ধে মতিঝিল থানার মামলা নং-৯৮ তারিখ-২২/০৮/২০০৪ ধারা-১৪৩/১৪৮/১৪৯/৩৩২/৩৩৩/৩৫৩/ ৩২৩/ ৪৩৫ দঃ বিঃ রুজু করাইয়া গ্রেপ্তারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করান। ঘটনার পর ইচ্ছাকৃতভাবে নিহত বা আহতদের আত্মীয়স্বজন বা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিকট হইতে এজাহার না নিয়া পুলিশকে বাদী করিয়া মামলা রেকর্ড করাইয়াছেন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউ সংলগ্ন পশ্চিম পাশ্র্বের এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত আসামি খান সাঈদ হাসান ডিসি দক্ষিণ ডিএমপি, ঢাকা ঘটনায় জড়িত আসামিদের সহজে গ্রেনেড আক্রমণের সুবিধার্থে ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী তাহার দায়িত্বাধীন এলাকায় আয়োজিত আওয়ামী লীগের জনসভা ও র‌্যালির জন্য কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই ফলে আসামিরা নির্বিঘ্নে পালাইয়া যাইতে সক্ষম হয়। বরং তিনি একটি মিথ্যা ডিউটি প্রোগ্রামের বিষয় কন্ট্রোল রুমের ডায়রিতে দেখাইয়াছেন এবং ঘটনার পর নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইয়া লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপের মাধ্যমে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করিয়া ভিকটিমদের দ্রুত হাসপাতালে প্রেরণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিয়াছেন। এ ছাড়া তিনি ইং ২২/০৮/২০০৪ তারিখ তাহার দায়িত্বাধীন এলাকায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে প্রাপ্ত তাজা আর্জেস গ্রেনেড সংক্রান্ত কোনো মামলা রুজুর ব্যবস্থা করেন নাই। জেলখানার মতো স্পর্শকাতর স্থানে আর্জেস গ্রেনেডের মতো মারণাস্ত্র পাওয়া গেলেও এই বিষয়ে তিনি কোনো তদন্ত বা অনুসন্ধানের ব্যবস্থা করেন নাই এমনকি তিনি জেলখানার অভ্যন্তরের উক্ত স্থানটি পরিদর্শনও করেন নাই। উপরন্তু গ্রেনেডটি সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করিয়া সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দ্রুত ধ্বংসের মাধ্যমে আলামত নষ্ট করিয়াছেন।
আসামি তৎকালীন পুলিশ কমিশনার ও পরবর্তীতে আইজিপি (অব.) আশরাফুল হুদা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করিয়া ঘটনার দিন তড়িঘড়ি করে বিদেশ গমন করেন। আওয়ামী লীগের উক্ত জনসভাস্থলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নেওয়া সত্ত্বেও তিনি বিদেশ যাওয়ার প্রাক্কালে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে আওয়ামী লীগের জনসভা ও র‌্যালির জন্য সর্ব প্রকার নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে মর্মে জানান। ঘটনার পর তিনি বিদেশ হইতে ফেরত আসিয়া উক্ত গ্রেনেড হামলার ঘটনার সময় ডিউটিরত পুলিশের দায়িত্ব পালনে মারাত্মক অবহেলার জন্য দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই বা এই বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে কোনো প্রকার প্রতিবেদন দেন নাই। পরবর্তীতে তিনি আইজিপি থাকাকালীন মুফতি আবদুল হান্নান ও তাহার জঙ্গি গোষ্ঠীর অপতৎপরতা সম্পর্কে পূর্ব হইতে অবহিত থাকার পরও এই মামলার প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্তকরণ ও গ্রেপ্তারের কোনো বিষয়ে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেন নাই। আসামি শহুদুল হক প্রাক্তন আইজিপি (অব.) ঘটনার সময় আইজিপির দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেন। তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিরোধীদলীয় নেত্রীর উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে প্রতিবাদ সভা ও র‌্যালির নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার বিষয়ে কোনো প্রকার খোঁজখবর নেন নাই। তাহার অফিস থেকে আনুমানিক ৫০০ গজের মধ্যে ঘটনাস্থল কিন্তু তিনি ঘটনার পরে কোনো সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নাই। তিনি প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিতকরণ ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো প্রকার নির্দেশনা দেন নাই বা উদ্যোগ গ্রহণ করেন নাই। নিরাপত্তা বিধানের জন্য যাহারা দায়ী ছিলেন তাহাদের বিরুদ্ধেও কোনো প্রকার বিভাগীয় তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। এমনকি ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনার জনাব মিজানুর রহমান এই সকল পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে উদ্যোগ নিতে চাইলে তিনি উহা করিতে দেন নাই। মুফতি হান্নান ও তাহার জঙ্গিগোষ্ঠীর অপতৎপরতা সম্পর্কে তিনি পূর্ব হইতে অবহিত থাকা সত্ত্বেও এই মামলা সংক্রান্তে তাহাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই। আসামি ও সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং এই সমস্ত পারিপাশ্বর্িক ঘটনার সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, উপরোক্ত আসামি ১. আইজিপি (অব.) মো. আশরাফুল হুদা, ২. আইজিপি (অব.) শহুদুল হক, ৩. সাবেক ডিসি (পূর্ব) মো. ওবায়দুর রহমান খান, ৪. সাবেক ডিসি (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান পরস্পর যোগসাজশে ইচ্ছাকৃতভাবে মূল আসামিদের প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করিয়া অর্পিত দায়িত্ব পালনে বিরত থাকিয়া তাহাদের নির্বিঘ্নে ঘটনাস্থল ত্যাগ করিতে ও পরবর্তীতে তাহাদের অপরাধের দায় হইতে বাঁচাইবার সুযোগ করিয়া দিয়া অপরাধ করিয়াছেন।
মামলা তদন্তে আরো প্রকাশ পায় যে, ২০০০ সালের জুলাই মাসে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বোমা পুঁতিয়া হত্যা করার চেষ্টা মামলাটি সিআইডি কর্তৃক তলব হয়। সিআইডির এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান (অত্র মামলার পূর্বের তদন্তকারী কর্মকর্তা) মামলাটি তদন্তমর্মে মুফতি হান্নানসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই সময়ে তিনি নিজে বাদী হইয়া কোটালীপাড়া থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ ও সরকার উৎখাতের চেষ্টা মামলাটির বাদী হন এবং উক্ত মামলায় মুফতি হান্নানসহ অপরাপর অপরাধীদের আসামি করেন। তা ছাড়া ২০০১ সালে মুফতি হান্নান এসব জঙ্গিগোষ্ঠী সিলেটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বোমা মেরে হত্যার চেষ্টা চালায় কিন্তু ব্যর্থ হইয়া বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় আহতদের দুজন জঙ্গি নিহত হয় এবং এ সংক্রান্ত মামলাটিও সিআইডি তদন্ত করে। তখন থেকে সিআইডির এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশিদ ও বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন ভালোভাবে অবহিত ছিলেন যে, মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী ও তার জঙ্গিগোষ্ঠী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের ক্রমাগতভাবে হত্যার চেষ্টা চালাইতেছে এবং তাহা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন স্তরের লোকজনও অবহিত ছিল। পত্রপত্রিকায় বিভিন্ন সময় মুফতি হান্নানের এই জঘন্য তৎপরতার সম্পর্কে সংবাদ প্রকাশ পায়। অথচ ২১ শে আগস্ট ২০০৪ গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্তের প্রথম পর্যায় থেকে মুফতি হান্নানসহ অন্য অপরাধীদের বাঁচাইবার উদ্দেশ্যে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে মুফতি হান্নান ও তার অন্যান্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার তদন্ত বা ব্যবস্থা গ্রহণ না করিয়া জজ মিয়া নামক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করিয়া মিথ্যা, বানোয়াট স্বীকারোক্তি সৃজন করিয়া আদালতে লিপিবদ্ধ করায়। ২০০৫ সালের ৫ই অক্টোবর মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী র‌্যাব কর্তৃক গ্রেপ্তার হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী ২১ আগস্ট ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলাসহ সকল গ্রেনেড হামলার দায়দায়িত্ব স্বীকার করিয়া তাহার সহযোগীদের নাম প্রকাশ করা সত্ত্বেও তাহাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় নাই এবং তাহার অন্য সহযোগীদের চিহ্নিত করিয়া গ্রেপ্তার করা হয় নাই। উপরন্তু মুফতি হান্নান মুন্সী গ্রেপ্তারের পরও জজ মিয়ার মিথ্যা বানোয়াট স্বীকারোক্তির সাথে মিল রাখিয়া এই মামলায় আসামি আবুল হাসেম রানা ও শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করিয়া গত ১৬/১১/২০০৫ ইং তারিখে একইভাবে মিথ্যা, বানোয়াট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করানো হয়। মুফতি হান্নান গ্রেপ্তার থাকার সময় আসামি শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল গ্রেপ্তার হইলে বিপুল, মুফতি হান্নানের নিকট থেকে গ্রেনেড সংগ্রহ করে ২০০৪ সালে সিলেটে আনোয়ার চৌধুরীর উপর একই প্রকার আর্জেস গ্রেনেড আক্রমণের বিষয়ে স্বীকারোক্তি প্রদান করার পরেও তৎকালীন সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি (পরবর্তীতে আইজিপি) আসামি খোদা বঙ্ চৌধুরী, বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, সহযোগী পুলিশ সুপার মুন্সী আতিকুর রহমান জ্ঞাতসারে মামলায় প্রকৃত জড়িত আসামিদেরকে বাঁচাইবার উদ্দেশ্যে মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখান নাই এবং অন্যান্য বোমা ও গ্রেনেড হামলার ঘটনায় স্বীকারোক্তি নেওয়া সত্ত্বেও এই মামলার ঘটনার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করান নাই। উপরোক্ত পুলিশ অফিসারগণ ২১ আগস্ট, ২০০৪-এর ঘটনার পূর্ব হইতে আসামি মুফতি হান্নান ও তার জঙ্গিগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য বারবার চেষ্টা চালাইতেছে জানা সত্ত্বেও এবং তাহাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও মুফতি হান্নান ও তাহার সহযোগীদের গ্রেপ্তারের কোনো চেষ্টা না নিয়া এবং তাহাকে ও তাহার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা না করিয়া তাহাদেরকে ২১ আগস্ট ঘটনার মতো আওয়ামী লীগের নেতা-নেত্রীদের উপর বরাবরে গ্রেনেড হামলা পরিচালনার সুযোগ করিয়া দিয়াছেন। পরবর্তীতে অত্র মামলা তদন্তকালে মুফতি হান্নান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাহার প্রদত্ত জবানবন্দিতে সে স্বীকার করিয়াছে যে, নির্বিঘ্নে গ্রেনেড হামলা চালানোর জন্য তাহারা (মুফতি হান্নান গং) প্রশাসনিক সহায়তা পাইয়াছে। এই মামলার গ্রেনেড সরবরাহকারী হিসাবে মাওলানা তাজউদ্দিনের নাম তাহার তদন্তকালে প্রকাশ পায়। তাহাকেও এই মামলায় গ্রেপ্তারের কোনো পদক্ষেপ নেন নাই। উক্ত অফিসারদের উপরোক্ত কর্মকাণ্ড হইতে ইহাই স্পষ্ট যে, তাহারা পূর্ব হইতেই জানত যে মুফতি হান্নান ও তাহার সহযোগীরা প্রশাসনিক সহায়তায় ২১ শে আগস্ট, ২০০৪ গ্রেনেড হামলা করিয়াছে। তাহা জানা সত্ত্বে তাহার পরবর্তীতে মুফতি হান্নান ও তাহার সহযোগীদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করিয়া এবং তাহাদের রক্ষা করার জন্য প্রলোভন, ভয়ভীতি দেখাইয়া অন্য লোকের উপর দায় চাপাইয়া দিয়া প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার লক্ষ্যে জজ মিয়া, আবুল হাশেম রানা ও শফিকুল ইসলামদের দ্বারা মিথ্যা ও বানোয়াট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করাইয়া এবং ভুল রেকর্ড লিপিবদ্ধ করিয়া অপরাধ করিয়াছেন।
পরবর্তীতে মূল পরিকল্পনাকারী স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের নির্দেশে এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর জ্ঞাতসারে ২১ শে আগস্ট, ২০০৪-এর অন্যতম পরিকল্পনা ও গ্রেনেড সরবরাহকারী মাওলানা তাজউদ্দিনকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পিএস-২ লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, তাহার (ডিউক) ভায়েরা ভাই ডিজিএফআই-এর সিটিআইবির জিএসও-১ লে. কর্নেল (বরখাস্ত) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার এবং সিটিআইবির ডাইরেক্টর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বর্তমানে মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন পরস্পর যোগসাজশে মূল অপরাধীদের রক্ষাকল্পে বাদল নামীয় পাসপোর্ট দ্বারা তৎকালীন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়া ইং ১০/১০/২০০৬ তারিখ পাকিস্তানে পাঠাইয়া দিয়া এবং আসামি মাওলানা তাজউদ্দিনের আপন বড় ভাই অভিযুক্ত আসামি আব্দুস সালাম পিন্টুকে গ্রেপ্তার করার কারণে তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসপি ফজলুল কবিরকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখাইয়া অপরাধ করিয়াছেন।
এই মামলার পূর্বের তদন্তকারী অফিসার এএসপি মো. ফজলুল কবির, পিপিএম তাহার তদন্তকালে সাক্ষ্য প্রমাণে প্রকাশিত আসামি ১. মুফতি আব্দুল হান্নান মুন্সী ওরফে আবুল কালাম ওরফে আব্দুল হান্নান, ২. মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, ৩. শরিফ শাহেদুল আলম বিপুল, ৪. মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, ৫. আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, ৬. মো. জাহাঙ্গীর আলম, ৭. হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, ৮. শাহাদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, ৯. হোসাইন আহমেদ তামিম, ১০. মো. আব্দুস সালাম পিন্টু, ১১. মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, ১২. আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আব্দুর রাজ্জাক, ১৩. মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ, ১৪. মো. উজ্জ্বল ওরফে রতন, ১৫. মাওলানা মো. তাজউদ্দিন, ১৬. মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তাকিন, ১৭. আমিনুল মুরছালিন, ১৮. মো. খলিল, ১৯. জাহাঙ্গীর আলম বদর, ২০. মো. ইকবাল, ২১. আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, ২২. লিটন ওরফে মাওলানা লিটন ওরফে দেলোয়ার হোসেন ওরফে জুবায়েরদের বিরুদ্ধে দ: বি: ১২০বি/৩২৪/৩২৬/৩০৭/ ৩০২/১০৯/৩৪ ধারা এবং বিস্ফোরক ইত্যাদি আইনের ৩, ৪ ও ৬ ধারায় পৃথক (Split up) অভিযোগপত্র দাখিল করিয়াছেন যাহা আদালতে বিচারাধীন আছে।
মামলার বর্তমান অধিকতর তদন্তকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনপ্রাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ, সংগৃহীত আলামত ও পরিপাশ্বর্িক প্রমাণাদিতে পূর্বে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত সকল আসামিগণসহ বর্তমান অধিকতর তদন্তে প্রাপ্ত অত্র সম্পৃক্ত অভিযোগপত্রের ২ ও ৩ নং কলামে বর্ণিত আসামিদের পূর্বে দাখিলকৃত অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত আসামিদেরসহ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করিয়া একই উদ্দেশ্য সাধনকল্পে পরস্পর যোগসাজশে প্রশাসনিক সহায়তায় ২১ শে আগস্ট ২০০৪ তারিখে ০৫.৩০/০৫.৪৩ মিনিটে মামলার ঘটনাস্থল ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্র বঙ্গবন্ধু এভিনিউ এলাকায় আওয়ামী লীগ কর্তৃক আয়োজিত র‌্যালি পূর্ব প্রতিবাদ সভায় তৎকালীন জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেত্রী বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থেকে বক্তৃতা প্রদান শেষ হওয়ার সাথে সাথে সুপরিকল্পিতভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হত্যার উদ্দেশ্যে মারাত্মক সমরাস্ত্র আর্জেস গ্রেনেড দ্বারা আক্রমণ করিয়া বর্তমান মহামান্য প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান-এর সহধর্মিণী আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ১৯ জন নেতা-কর্মীকে হত্যা করে এবং অনেক নেতা-কর্মী গুরুত্বর জখমসহ বিভিন্ন প্রকার জখম করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টায় ব্যবহৃত আলামত নষ্ট করে, প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করে আসামিদের পলায়নে সাহায্য করে, তদন্তের পর্যায়ে পূর্ব পরিকল্পিত ও জ্ঞাতসারে চিহ্নিত প্রকৃত অপরাধীদের ইচ্ছাকৃতভাবে আইনের আওতায় না নিয়ে নিরপরাধ লোকদের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট স্বীকারোক্তি রেকর্ড করিয়ে এবং অপরাধীদের রক্ষাকল্পে ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনা, গ্রেনেড সরবরাহকারী ও ষড়যন্ত্রকারীকে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়ে দ: বি: ১২০বি/৩২৪/ ৩২৬/৩০৭/৩০২/ ২০১/১১৮/১১৯/২১২/২১৭/২১৮/৩৩০/১০৯/৩৪ এবং বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩, ৪ ও ৬ ধারায় অপরাধ করিয়াছে মর্মে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামি ১. লুৎফুজ্জামান বাবর, ২. মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, ৩. ব্রিগেডিয়ার আব্দুর রহিম, ৪. তারেক রহমান ওরফে তারেক জিয়া, ৫. হারিছ চৌধুরী, ৬. কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, ৭. আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, ৮. মো. হানিফ, ৯. আসামি মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আরিফ, ১০. মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম, ১১. মো. আব্দুল মাজেদ ভাই ওরফে মো. ইউসুফ ভাট, ১২. আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোহাম্মদ ওরফে জিএম, ১৩. মাওলানা আ. রউফ ওরফে আবু ওমর আবু ওমর আবু হোমাইরা ওরফে পীর সাহেব (বাবা), ১৪. মাওলানা সাবি্বর আহমেদ ওরফে আব্দুল হান্নান সাবি্বর, ১৫. মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, ১৬. হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, ১৭. মুফতি শফিকুর রহমান ১৮. মুফতি আব্দুল হাই, ১৯. বাবু ওরফে রাতুল বাবু, ২০. আইজিপি (অব.) মো. আশরাফুল হুদা, ২১. আইজিপি (অব.) শহুদুল হক, ২২. এএসপি আব্দুর রশিদ (অব.), ২৩. এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান (অব.), ২৪. বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন, ২৫. তৎকালীন অতিরিক্ত আইজি (সিআইডি) পরবর্তীতে আইজিপি (অব.) খোদা বঙ্ চৌধুরী, ২৬. লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক), ২৭) লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, ২৮. মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন, ২৯. সাবেক ডিসি (পূর্ব) মো. ওবায়দুর রহমান, ৩০. সাবেক ডিসি (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসানদের বিরুদ্ধে অত্র মতিঝিল থানার সম্পূরক পৃথক (ঝঢ়ষরঃ ঁঢ়) অভিযোগপত্র নং-৪৬৩ তারিখ ০২/০৭/২০১১ ইং ধারা-১৯০৮ সালের বিস্ফোরক আইন (সংশোধনী-২০০২)-এর ৩, ৪ ও ৬ ধারায় সম্পূরক অভিযোগপত্র পেশ করিলাম।
পুলিশ সুপার মো. ওবায়দুর রহমান এবং ডিআইজি খান সাঈদ হাসানদ্বয় চাকুরীরত থাকার কারণে তাহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের নিমিত্তে সরকারি মঞ্জুরি (ঝধহপঃরড়হ) গ্রহণ করা হইয়াছে।
পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও আদালতে হাজির হইতে বাধ্য করার লক্ষ্যে গ্রেপ্তারি ও ক্রোকি পরোয়ানা এবং হুলিয়া জারি করিতে এবং অভিযোগপত্রে বর্ণিত সাক্ষীদের আদালতে হাজির হওয়ার নিমিত্তে সমন জারি করিতে বিজ্ঞ আদালতের মর্জি হয়। দণ্ডবিধি-১২০ বি/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩০২/২০১/১১৮/১১৯/২১২/২১৭/২১৮/৩৩০/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগের জন্য মতিঝিল থানার সম্পূরক অভিযোগপত্র নং-৪৬২ তারিখ-০২/০৭/২০১১ ইং দঃ বিঃ দাখিল করা হইয়াছে।
(আব্দুল কাহার আকন্দ)
বিপিএম (বার), পিপিএম (বার)
বিশেষ পুলিশ সুপার
ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ)
সিআইডি, বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা।

সূত্র: কালেরকণ্ঠ, ১১/০৭/২০১১

No comments:

Post a Comment