দলের নীতিবহির্ভূত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের জন্য চার নীতিনির্ধারককে নিয়ে বিপাকে আছে বিএনপি। দলের বিভিন্ন স্তরে এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে কারও সঙ্গে তুলনা চলে না।’ তাঁর এই বক্তব্যকে দলের শৃঙ্খলাপরিপন্থী বলেছেন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক রুহুল কবীর রিজভী। অন্যদিকে, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় হরতাল দেওয়া হবে’ বলে বক্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এ ছাড়া দলে সংস্কারপন্থীদের বিরোধিতাকারী হিসেবে পরিচিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও আ স ম হান্নান শাহকে নিয়েও বিব্রত বিএনপি।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে যাওয়ার আগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে দলের নীতিবিরুদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য সব পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশ দেন।
বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা বলেন, খালেদা জিয়া বলেছেন, অনেক হয়েছে। আর যেন এসব বিষয় নিয়ে কেউ কোনো বাড়াবাড়ি না করে।
এর আগে গত সোমবার রাতে খালেদা জিয়া গয়েশ্বর চন্দ্রসহ কয়েকজন নেতাকে ভর্ৎসনা করেন। তিনি দলীয় মুখপাত্র ছাড়া কাউকে স্পর্শকাতর বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেন।
সূত্র জানায়, জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ছয়বার বিএনপি ভেঙেছে। গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাংসদ ভাগিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তা ছাড়া বিএনপির নেতাদের অনেকেই এ দল-সে দল থেকে এসেছেন। এ জন্য দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী বক্তব্য বিএনপিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হচ্ছে। বিএনপির প্রভাবশালী এসব নেতার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড শুধুই রাজনৈতিক, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা যা করছেন বা বলছেন, তা দলের নীতির সঙ্গে যায় না। বিএনপির কাছে জিয়াউর রহমান অনেক উঁচু স্তরে। তাঁকে খাটো করা হলে দলের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়ে। আবার বিএনপি ভারতবিরোধী অবস্থানে থাকলেও প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সমমর্যাদাপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাসী। তাই সে দেশটির প্রধানমন্ত্রী এ দেশে এলে হরতাল দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত দলের নেই। বরং মনমোহনকে স্বাগত জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সর্বশেষ, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সৃষ্ট সংস্কারপন্থী বিষয়টি দলে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তাই এ নিয়ে কোনো ধরনের অনৈক্য সৃষ্টি করা দলের স্বার্থের পরিপন্থী।
বিএনপির এক নেতা বলেন, বিভিন্ন স্তরের কমিটি গঠন ও পদ-পদবি নিয়ে মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর রায়ের ক্ষোভ রয়েছে। এক-এগারো-পরবর্তী সময়ে যাঁরা বেশি নিগৃহীত ছিলেন, তাঁদের দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার পক্ষে এই দুই নেতা। কিন্তু তা না হওয়ায় তাঁরা প্রায়ই দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারী বক্তব্য দেন। হান্নান শাহও এর সঙ্গে সুর মেলান। কিন্তু তাঁরা পরীক্ষিত নেতা। তাঁরা দল ছেড়ে অন্য দলে যাবেন বলে মনে হয় না।
ওই নেতা বলেন, মওদুদ আহমদ বিভিন্ন দলে ছিলেন। তাঁকে সুবিধাবাদী রাজনীতিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ জন্য সন্দেহটা মূলত তাঁকে ঘিরে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মওদুদ আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার যে বক্তব্য খণ্ডিত আকারে ছাপা হয়েছে, তা পড়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কষ্ট পেতে পারেন। কিন্তু আমি বলব, বিষয়টি শুধুই ভুল বোঝাবুঝি। আশা করি, তা শেষ হয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপির একজন পরীক্ষিত নেতা। দল ছাড়ার প্রশ্নই আসে না।’
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দলের নীতিবহির্ভূত কোনো কাজের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না। বিএনপিতে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন হয় না। ত্যাগীদের নানাভাবে হেনস্তা করা হয়। এঁরাই একসময় সন্দেহের তালিকায় পড়ে যান। তিনি বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময় যাঁরা রাজপথ চষে বেড়িয়েছেন, বিএনপির কোনো জায়গায় তাঁদের ঠাঁই হয়নি, আর যাঁদের তালা ভাঙার (সংস্কারপন্থী) অভিজ্ঞতা আছে, তাঁদের পুরস্কৃত করা হয়েছে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে বিএনপি এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। দল গোছানোই এখন তাঁদের প্রধান কাজ। মাঠপর্যায়ে কমিটি নিয়ে বেশ কিছু সমস্যার সমাধান তাঁরা করেছেন। ঈদের পর পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় নেতা ও চেয়ারপারসনের ঢাকার বাইরে জেলা সফরের সম্ভাবনা আছে। তিনি বলেন, ‘আশা করছি, খুব দ্রুত সব সমস্যা সমাধান করে নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করা যাবে।’
সূত্র:প্রথমআলো.কম,20.08.2011
সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে কারও সঙ্গে তুলনা চলে না।’ তাঁর এই বক্তব্যকে দলের শৃঙ্খলাপরিপন্থী বলেছেন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক রুহুল কবীর রিজভী। অন্যদিকে, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় হরতাল দেওয়া হবে’ বলে বক্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এ ছাড়া দলে সংস্কারপন্থীদের বিরোধিতাকারী হিসেবে পরিচিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও আ স ম হান্নান শাহকে নিয়েও বিব্রত বিএনপি।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে যাওয়ার আগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে দলের নীতিবিরুদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য সব পর্যায়ের নেতাদের নির্দেশ দেন।
বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা বলেন, খালেদা জিয়া বলেছেন, অনেক হয়েছে। আর যেন এসব বিষয় নিয়ে কেউ কোনো বাড়াবাড়ি না করে।
এর আগে গত সোমবার রাতে খালেদা জিয়া গয়েশ্বর চন্দ্রসহ কয়েকজন নেতাকে ভর্ৎসনা করেন। তিনি দলীয় মুখপাত্র ছাড়া কাউকে স্পর্শকাতর বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেন।
সূত্র জানায়, জন্মলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ছয়বার বিএনপি ভেঙেছে। গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাংসদ ভাগিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তা ছাড়া বিএনপির নেতাদের অনেকেই এ দল-সে দল থেকে এসেছেন। এ জন্য দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী বক্তব্য বিএনপিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হচ্ছে। বিএনপির প্রভাবশালী এসব নেতার বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড শুধুই রাজনৈতিক, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা যা করছেন বা বলছেন, তা দলের নীতির সঙ্গে যায় না। বিএনপির কাছে জিয়াউর রহমান অনেক উঁচু স্তরে। তাঁকে খাটো করা হলে দলের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়ে। আবার বিএনপি ভারতবিরোধী অবস্থানে থাকলেও প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সমমর্যাদাপূর্ণ সম্পর্কে বিশ্বাসী। তাই সে দেশটির প্রধানমন্ত্রী এ দেশে এলে হরতাল দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত দলের নেই। বরং মনমোহনকে স্বাগত জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সর্বশেষ, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সৃষ্ট সংস্কারপন্থী বিষয়টি দলে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। তাই এ নিয়ে কোনো ধরনের অনৈক্য সৃষ্টি করা দলের স্বার্থের পরিপন্থী।
বিএনপির এক নেতা বলেন, বিভিন্ন স্তরের কমিটি গঠন ও পদ-পদবি নিয়ে মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর রায়ের ক্ষোভ রয়েছে। এক-এগারো-পরবর্তী সময়ে যাঁরা বেশি নিগৃহীত ছিলেন, তাঁদের দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার পক্ষে এই দুই নেতা। কিন্তু তা না হওয়ায় তাঁরা প্রায়ই দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিকারী বক্তব্য দেন। হান্নান শাহও এর সঙ্গে সুর মেলান। কিন্তু তাঁরা পরীক্ষিত নেতা। তাঁরা দল ছেড়ে অন্য দলে যাবেন বলে মনে হয় না।
ওই নেতা বলেন, মওদুদ আহমদ বিভিন্ন দলে ছিলেন। তাঁকে সুবিধাবাদী রাজনীতিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ জন্য সন্দেহটা মূলত তাঁকে ঘিরে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মওদুদ আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার যে বক্তব্য খণ্ডিত আকারে ছাপা হয়েছে, তা পড়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা কষ্ট পেতে পারেন। কিন্তু আমি বলব, বিষয়টি শুধুই ভুল বোঝাবুঝি। আশা করি, তা শেষ হয়েছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপির একজন পরীক্ষিত নেতা। দল ছাড়ার প্রশ্নই আসে না।’
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দলের নীতিবহির্ভূত কোনো কাজের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না। বিএনপিতে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন হয় না। ত্যাগীদের নানাভাবে হেনস্তা করা হয়। এঁরাই একসময় সন্দেহের তালিকায় পড়ে যান। তিনি বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময় যাঁরা রাজপথ চষে বেড়িয়েছেন, বিএনপির কোনো জায়গায় তাঁদের ঠাঁই হয়নি, আর যাঁদের তালা ভাঙার (সংস্কারপন্থী) অভিজ্ঞতা আছে, তাঁদের পুরস্কৃত করা হয়েছে।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রথম আলোকে বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে বিএনপি এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। দল গোছানোই এখন তাঁদের প্রধান কাজ। মাঠপর্যায়ে কমিটি নিয়ে বেশ কিছু সমস্যার সমাধান তাঁরা করেছেন। ঈদের পর পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় নেতা ও চেয়ারপারসনের ঢাকার বাইরে জেলা সফরের সম্ভাবনা আছে। তিনি বলেন, ‘আশা করছি, খুব দ্রুত সব সমস্যা সমাধান করে নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করা যাবে।’
সূত্র:প্রথমআলো.কম,20.08.2011
No comments:
Post a Comment