Thursday, August 25, 2011

আমাদের সিভিক সেন্সের অভাব আছে: প্রধানমন্ত্রী




প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘পুরো দেশকে নিয়মশৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু একটু ধৈর্য ধরতে হবে। সমস্যা আসবে, হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সমস্যা যেটুকু থাকুক, তা সমাধানের জন্য আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ জাতীয় সংসদের দশম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে আজ বৃহস্পতিবার তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির অনুপস্থিতিতে জাসদের মইনুদ্দিন খান এবং স্বতন্ত্র সদস্য ফজলুল আজিম বক্তব্য দেন।
সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো ঈদের আগে চলাচলের উপযুক্ত করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টাকা পাওয়ার পরই যোগাযোগমন্ত্রী ময়মনসিংহ পর্যন্ত চলে গেছেন। আমি তাঁকে নির্দেশ দিয়েছি যে রাস্তার গর্তগুলো ভরাট করে চলাচলের যোগ্য করতে। একটু শুকনো মৌসুম আসলে পুরোপুরি ঠিক করা হবে। এখন যদি পুরোপুরি ঠিক করতে যায়, তাহলে পুরো টাকাটাই পানিতে যাবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত দেশের মহাসড়কগুলোর কোনো রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি বলে এ অবস্থা। আমরা যে বাজেট করেছি, তার পুরোটা তো ঢেলে দেওয়া যায় না। যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়টি মাথায় থাকলেও বেশি ব্যয় করতে পারিনি। খাদ্য আর বিদ্যুতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছি।’
এই মৌসুমের ভারী বর্ষণের কথা উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, ‘রাস্তা মেরামতের জন্য এক হাজার ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হলো। সেভাবে আমরা কাজও করছিলাম। কিন্তু এর মধ্যেই বর্ষা এসে গেল। যে পরিমাণ বৃষ্টি হলো, তা গত দু-তিন বছরের মধ্যে হয়নি।’ জমে থাকা পানি সরে যাওয়ার জন্য ব্যবস্থা না রাখায় রাস্তার পাশে কল-কারখানা ও সিএনজি স্টেশন গড়ে তোলার সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা।
ট্রাকের অতিরিক্ত মালামাল নেওয়ার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ট্রাকগুলোর যতটুকু মাল নেওয়ার সীমা রয়েছে, তার বেশি মাল নিচ্ছে। অতিরিক্ত চাপ এই রাস্তা সহ্য করতে পারে না। আমি ট্রাকমালিক আর যে সকল এজেন্সি এই মাল বহন করে, আমি তাদের বলব, রাস্তা ভালো চাইলে যতটুকু মাল তোলার ততটুকু তুলতে হবে।’ মেঘনা সেতুর বর্তমান ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থার জন্য ট্রাক অতিরিক্ত মাল নেওয়াকেও কিছুটা দায়ী করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর বোঝাই ট্রাক ওজনের মেশিন ‘কায়দা করে’ নষ্ট করে রাখা হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘সিভিক সেন্সের প্রয়োজন আছে। এই জিনিসটার আমাদের অভাব।’
চালকদের প্রশিক্ষণ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের প্রচুর চালক দরকার। আমাদের চালক কম। এই জন্য কেউ স্টিয়ারিংয়ে বসে চালাতে পারলেই বসে পড়ে।’
যারা সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা পরীক্ষা দিয়ে যানবাহন চলাচলের জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়েছেন কি না, সে প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু অশিক্ষিত লোকেরাই নয়, যাঁরা এখন আন্দোলন করছেন, যাঁরা নিজেরা গাড়ি চালান, তাঁরাও অনেকে পরীক্ষা না দিয়ে লাইসেন্স নিয়েছেন। অনেকেই ড্রাইভারকে টাকা দিয়ে পাঠিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়েছেন।’ ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী চালকদের কিছু বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দেন।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তখন অত্যন্ত উচ্চমার্গের লোকেরা দেশ চালিয়েছিলেন। তখন দেশে ছিল সুশীল বাবুদের সরকার। মিলিটারি ব্যাকড সরকার। তারাও বিদ্যুত্ ও দ্রব্যের মূল্য কমাতে পারেনি।’
যানজট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন অনেকেরই সচ্ছলতা এসেছে। সকলের গাড়ি আছে। অনেক পরিবারে দুটি গাড়ি। কারও আবার তিন খানা। এখন কীভাবে ট্রাফিক জ্যাম কমাবেন?’
বিভিন্ন টক শোতে যারা বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন, তাঁদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গুলশান-বারিধারায় যাঁরা থাকেন, যাঁরা টিভিতে এসে বড় বড় কথা বলেন, তাঁরা রাস্তার জায়গাও নিয়ে নিয়েছেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারকে তো খালি গালি দিয়ে হবে না। যানবাহন যেন সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহার হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে।
এ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীকে থামিয়ে দিয়ে স্পিকার আব্দুল হামিদ গাড়ির জ্বালানি হিসেবে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার সীমিত করার কথা বলে বলেন।
ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য একটার বেশি গাড়ি কিনলে পর্যায়ক্রমে কর বাড়ানোর প্রস্তাবও দেন স্পিকার।
স্পিকারের বক্তব্যের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, ‘গ্যাসের দাম কম বলেই হয়তো এভাবে ব্যবহার হচ্ছে। এই অমূল্য সম্পদ যেন যত্রতত্র ব্যবহার করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা রান্নার জন্য সিলিন্ডারের গ্যাসের ব্যবস্থা করছি।’

From:ProthomAlo.com,25.08.2011

No comments:

Post a Comment