Monday, August 29, 2011

মাহবুবে চাইলে আহম্মেদকে বাঁচাতে পারতেন

ঢাকা, অগাস্ট ২৮ 
(অ্যাডভোকেট মমতাজউদ্দিন (এম ইউ) আহম্মেদের (৫২) মৃত্যুর জন্য এবার সরাসরি অ্যাটর্নি জেনারেলের দিকে আঙুল তুললেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন। 


রোববার মালিবাগের নিজের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "অ্যাটর্নি জেনারেল চাইলে এম ইউ আহম্মেদকে বাঁচাতে পারতেন। আমরা তার জামিন চেয়েছিলাম, কিন্তু তার অনড় মনোভাবের জন্যই তা সম্ভব হয়নি।"

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে নমনীয় হতে অনুরোধ করার পরও তিনি 'সবাইকে জেলে পাঠিয়ে দেন' উল্লেখ করে খন্দকার মাহবুব বলেন, "অ্যাডভোকেট আহম্মেদকে সরকারিভাবে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশনার পর আমি তাকে বলেছিলাম, আপনি চিকিৎসার উদ্যোগ নিন। অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে এটা আপনার কর্তব্য। কিন্তু তিনি তা নিলেন না। পরে একদিন এসে বললেন- 'আপনারা তার চিকিৎসা করান'।"

আদালতে হট্টগোলের মামলায় গত ১১ অগাস্ট বিএনপি সমর্থক আইনজীবী এম ইউ আহম্মেদকে তার সেগুন বাগিচার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এরই মধ্যে আহম্মেদসহ ওই মামলার আসামিদের জামিন হলে তাকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করেন তার স্ত্রী। শুক্রবার সেখানেই মারা যান এই আইনজীবী।

তার স্ত্রী সেলিনা আহম্মেদ এবং বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণেই আহম্মেদের মৃত্যু হয়েছে। তবে পুলিশ বলে আসছে, গ্রেপ্তারের পরপরই এই আইনজীবীর হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব এ প্রসঙ্গে বলেন, "অ্যাডভোকেট এম ইউ আহম্মেদের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের আদালতে দাঁড়াতে হবে।"

আহম্মেদের (৫২) মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব ও অ্যাটর্নি জেনারেলসহ তিন পুলিশ কর্মককর্তার বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন তার স্ত্রী সেলিনা আহম্মেদ। পুলিশ অভিযোগটি রাখলেও তা এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেনি।

এ প্রসঙ্গে বার সভাপতি মাহবুব বলেন, "অভিযোগটি এখনো মামলা হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট খুললে বা বন্ধের মধ্যেই যে কোনোভাবে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।"

শুক্রবার এমইউ আহম্মেদের মৃত্যুর পর তাকে দেখতে স্কয়ার হাসপাতালে গেলে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সে সময় খন্দকার মাহবুব সাংবাদিকদের বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদনকেই প্রভাবিত করতেই অ্যটর্নি জেনারেল হাসপাতালে এসেছেন।

এর প্রতিবাদ জানাতে শনিবার নিজের বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন মাহবুবে আলম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "খন্দকার মাহবুব হোসেনের বক্তব্য আমাকে ব্যথিত করেছে। এ বিষয়ে মানহানির মামলা করব কি না তা আমি গভীরভাবে ভাবছি।"

জবাবে নিজের বাসায় করা সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার মাহবুব বলেন, "উনি মামলা করলে ভালোই হয়। তাহলে আমরা অনেক কথাই প্রকাশ করতে পারব, যা সাধারণত ভদ্রতার খাতিরে আমরা বলি না।"

নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিএনপি সমর্থক এই আইনজীবী বলেন "তিনি (অ্যাটর্নি জেনারেল) হাসপাতালে এসেছেন নিজের গাড়িতে, গিয়েছেন পুলিশের গাড়িতে। গেট দিয়ে পুলিশ বেস্টনির মধ্য দিয়ে তিনি প্রবেশ করেছেন, বের হয়েছেন সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে। তার আচরণের কারণে আমার সন্দেহ হয়েছিল- তিনি সুরতহাল প্রতিবেদনকে প্রভাবিত করতেই সেখানে গিয়েছিলেন।"

"তিনি মানবিক কারনে সেখানে গিয়ে থাকলে আমাকে ডাকতে পারতেন। উনার দলের লোকজনকেও নিয়ে যেতে পারতেন। তা না করে একা একা গেলেন কেন? তিনি সেখানে ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে কি করছিলেন," প্রশ্ন করেন খন্দকার মাহবুব।

"তিনি বিজ্ঞ, কিন্তু বিতর্কিত অ্যাটর্নি জেনারেল। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ভদ্রলোক; আমার সঙ্গে তার সুসম্পর্কও রয়েছে। তবে আদালতে গেলে তিনি এসব ভুলে যান। রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল থেকে তিনি দলীয় অ্যাটর্নি জেনারেল হয়ে যান।"

শনিবার ইস্কাটনে সরকারি বাসায় করা সংবাদ সম্মেলনে সরকারের মাহবুবে আলম বলেন, 'লাশের রাজনীতি' করার জন্যই বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে।

"পুলিশের সঙ্গে আমি কথা বলে জেনেছি, হার্ট অ্যাটাকের সময় পুলিশ এবং তাদের গাড়ি ছিল বলেই তিনি (আহম্মেদ) তখন বেঁচে গিয়েছিলেন। সত্যিই শারীরিক নির্যাতন করা হলে তা তদন্তের জন্য বিএনপির আইনজীবীরা এতোদিন আদালতে তদন্তের দাবি করেননি কেন?"

"এখন তারা যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত," যোগ করেন সরকারের এই শীর্ষ আইন কর্মকর্তা।
সূত্র: বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর.কম

No comments:

Post a Comment